“আশীর্বাদ করুন, স্বাধীনতা দেব!”— যাদবপুরের সভায় দাঁড়িয়ে কেন এমন দাবি করলেন মোদী? তুঙ্গে বিতর্ক!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই সরগরম শহর কলকাতা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যাদবপুরে নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মোদীর প্রতিশ্রুতি— বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাকে ‘ভয় ও দুর্নীতির শাসন’ থেকে স্বাধীনতা দেবে।

মোদীর বক্তৃতার মূল বক্তব্য: ‘আশীর্বাদ বনাম স্বাধীনতা’

এদিন যাদবপুরের সভায় প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দেখা যায়। তিনি বলেন:

“আপনারা গত দেড় দশকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। এবার সময় এসেছে পরিবর্তনের। আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করুন, আমি আপনাদের সেই সত্যিকারের স্বাধীনতা দেব, যা থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত। তোলাবাজি, কাটমানি আর সিন্ডিকেট রাজ থেকে মুক্তিই হবে এই স্বাধীনতা।”

যাদবপুর নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা

শিক্ষাক্ষেত্র এবং মেধার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত যাদবপুর নিয়ে মোদী বলেন, একসময় এই এলাকা গবেষণায় পথ দেখাত, আর আজ এখানে শিক্ষা নয়, বিশৃঙ্খলা আর রাজনীতি জায়গা করে নিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং মেধাবী পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্টের আশ্বাস দেন তিনি।

বিজেপির আত্মবিশ্বাস ও ডাবল ইঞ্জিন সরকার

প্রধানমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই তৃণমূল শিবিরের বুক কাঁপতে শুরু করেছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধাগুলো তুলে ধরে তিনি জানান:

  • কিষাণ নিধি ও আয়ুষ্মান ভারত: রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্প সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

  • নারীর নিরাপত্তা: সন্দেশখালি থেকে যাদবপুর— মহিলাদের সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি নেবে বিজেপি।

  • পরিবেশ ও পরিকাঠামো: জঞ্জাল মুক্ত কলকাতা এবং উন্নত যানজটহীন পরিকাঠামোর প্রতিশ্রুতি।

বিরোধীদের পালটা প্রতিক্রিয়া

মোদীর এই ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক শিবিরের দাবি, মোদী আসলে নির্বাচনের আগে জুমলা বা ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই আছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy