সন্তানের বেড়ে ওঠা নিয়ে প্রতিটি বাবা-মায়ের মনেই একরাশ কৌতূহল আর চিন্তা থাকে। আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি যে আমাদের সন্তান হয়তো সমবয়সী আর পাঁচজনের মতো নয়। কেউ হয়তো খুব দ্রুত কথা বলতে শেখে, কেউ আবার ছবি আঁকায় বা অংক কষায় বিস্ময়কর প্রতিভা দেখায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ‘আলাদা’ হওয়াটা কি সাধারণ কোনো বিষয় নাকি এর পেছনে কোনো গভীর মনস্তাত্ত্বিক বা শারীরিক কারণ রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি শিশুর বিকাশের গতি আলাদা। তবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখে বোঝা যায় আপনার সন্তান জন্মগতভাবেই বিশেষ প্রতিভার অধিকারী কি না। উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বা ‘গিফটেড’ শিশুরা সাধারণত খুব অল্প বয়সেই কৌতূহলী হয়ে ওঠে। তারা শুধু ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করে না, বরং ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ সেটার উত্তর খুঁজতে চায়। তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা সাধারণ শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি হয় এবং তারা খুব দ্রুত নতুন বিষয় আয়ত্ত করতে পারে।
আবার অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মেলামেশায় অনীহা বা অতিরিক্ত চঞ্চলতাও শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। এটি সবসময় নেতিবাচক নয়; অনেক সময় সৃষ্টিশীল শিশুরা নিজেদের জগতেই ডুবে থাকতে পছন্দ করে। একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো সন্তানের এই ভিন্নতাকে বুঝতে পারা। তাকে অন্যের সাথে তুলনা না করে তার নিজস্ব প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশু একটি স্বতন্ত্র সত্তা। আপনার সন্তান যদি আর পাঁচজনের মতো না হয়, তবে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। হতে পারে সে আগামীর কোনো বড় বিজ্ঞানী, শিল্পী বা চিন্তাবিদ। তার ছোট ছোট অর্জনগুলোকে গুরুত্ব দিন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আজকের সঠিক যত্নই তার আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।





