চিকিৎসা, বিয়ে বা হঠাৎ কোনো জরুরি প্রয়োজন— ব্যক্তিগত ঋণ বা পার্সোনাল লোন (Personal Loan) হতে পারে আপনার মুশকিল আসান। কিন্তু সঠিক হিসাব না বুঝে লোন নিলে পরবর্তীকালে ইএমআই (EMI) মেটাতে কালঘাম ছুটতে পারে। বর্তমান বাজার দরে আপনার সিবিল (CIBIL) স্কোরের ওপর ভিত্তি করে সুদের হার সাধারণত ৯.৭৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত হতে পারে।
১ লাখ টাকা ১ বছরের জন্য নিলে কত পড়বে খরচ?
সুদের হারের সামান্য পরিবর্তন আপনার পকেটে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিচের টেবিলটি দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে:
| সুদের হার (%) | মাসিক কিস্তি (EMI) | মোট কত টাকা শোধ করতে হবে | মোট সুদের পরিমাণ |
| ৯.৯৫% | ৮,৭৮৯ টাকা | ১,০৫,৪৭১ টাকা | ৫,৪৭১ টাকা |
| ৯.৯৯% | ৮,৭৯১ টাকা | ১,০৫,৪৯৩ টাকা | ৫,৪৯৩ টাকা |
| ১১.০০% | ৮,৮৩৮ টাকা | ১,০৬,০৫৮ টাকা | ৬,০৫৮ টাকা |
| ১২.০৫% | ৮,৮৮৭ টাকা | ১,০৬,৬৪৭ টাকা | ৬,৬৪৭ টাকা |
সহজ কথা: সুদের হার যত বাড়বে, আপনার মাসিক ইএমআই এবং মোট সুদের পরিমাণ ততটাই বেশি হবে। তাই সবসময় সর্বনিম্ন সুদের হারের বিকল্পটি খোঁজা বুদ্ধিমানের কাজ।
লোন নেওয়ার আগে এই ৫টি টিপস অবশ্যই মনে রাখুন:
১. ক্রেডিট স্কোর (CIBIL): লোন নেওয়ার আগে নিজের সিবিল স্কোর যাচাই করুন। স্কোর ৭৫০-এর উপরে থাকলে ব্যাঙ্ক আপনাকে অনেক কম সুদে ঋণ দেবে।
২. তুলনা করুন: একটি ব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর না করে একাধিক ব্যাঙ্কের সুদের হারের তুলনা করুন। অনলাইন পোর্টালে সহজেই এটি দেখা যায়।
৩. দরাদরি করুন: আপনি যদি ব্যাঙ্কের পুরনো ও বিশ্বস্ত গ্রাহক হন, তবে সুদের হার কমানোর জন্য এজেন্টের সঙ্গে কথা বলতে দ্বিধা করবেন না।
৪. লুকানো চার্জ (Hidden Charges): শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না। প্রসেসিং ফি, প্রিপেমেন্ট চার্জ এবং লেট ফাইন সম্পর্কে আগেভাগেই স্বচ্ছ ধারণা নিন।
৫. পরিশোধের ক্ষমতা: লোনের কিস্তি আপনার মাসিক আয়ের ৩০-৪০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। আগে নিশ্চিত হোন যে প্রতি মাসে আপনি ওই টাকা স্বাচ্ছন্দ্যে দিতে পারবেন কি না।
পার্সোনাল লোন নেওয়ার সিদ্ধান্তটি হুজুগে না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় হিসাব করে নিন। মনে রাখবেন, সঠিক পরিকল্পনা আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।





