“মাছ নিয়ে তামাশা বন্ধ হোক!” যারা মাছ খাওয়া আটকাতে চায় তারাই মাছ নিয়ে ঘুরছে কেন? তোপ সেলিমের

২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই বিচিত্র হয়ে উঠছে প্রচারের ধরন। বাংলার চিরাচরিত ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ভাবাবেগকে হাতিয়ার করে বিজেপি যখন মাছ হাতে প্রচার চালাচ্ছে, ঠিক তখনই তাকে ‘তামাশা’ বলে দেগে দিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর সাফ কথা, যারা মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাদের মুখে মাছের কথা মানায় না।

সেলিমের আক্রমণের মূল কারণ: সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে, বিজেপির বেশ কিছু প্রার্থী ও নেতা হাতে মাছ নিয়ে বাজারে বাজারে প্রচার করছেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমিষ খাওয়া বন্ধ হবে বলে যে অপপ্রচার চলছে, তা ভুল। এই প্রেক্ষাপটেই মহম্মদ সেলিম আজ সরব হন:

  • দ্বিচারিতার অভিযোগ: সেলিমের দাবি, দেশের অন্য রাজ্যে যেখানে আমিষ খাওয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় গেরুয়া শিবির, সেখানে বাংলায় ভোটের জন্য মাছ হাতে প্রচার করাটা স্রেফ নাটক বা ‘তামাশা’।

  • ভোটের চাল: তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যারা সুযোগ পেলেই মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করতে চায়, তারাই এখন বাঙালির ভোট পেতে মাছ নিয়ে প্রচার করছে। এটা মানুষের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”

  • সংস্কৃতি বনাম রাজনীতি: বাম নেতার মতে, বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতি করাটা অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয়।

তৃণমূল বনাম বিজেপি বনাম বাম: বাংলার ভোটে মাছ এখন এক বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার। তৃণমূল যেখানে প্রচার করছে যে বিজেপি এলে ‘মাছ খাওয়া বন্ধ হবে’, সেখানে বিজেপি মাছ হাতে নিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে তারা বাঙালির সংস্কৃতির বিরোধী নয়। এই দুই পক্ষের লড়াইয়ের মাঝেই মহম্মদ সেলিম বিষয়টিকে ‘তামাশা’ বলে আক্রমণ করে তৃতীয় মাত্রা যোগ করলেন।

বিশেষ বক্তব্য: মহম্মদ সেলিমের এই কড়া অবস্থান কি সংখ্যালঘু ও প্রগতিশীল ভোটারদের বামেদের দিকে টানতে সাহায্য করবে? নাকি মাছ নিয়ে এই তরজা কেবল নির্বাচনী বিনোদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটাই এখন দেখার।

ভোটের পাতে শেষ পর্যন্ত কোন মাছটি কার কপালে জোটে, তা জানতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy