নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১১ বছরের শাসনকালে যা কখনও ঘটেনি, আজ তাই ঘটল। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও এক ঐতিহাসিক পরাজয়ের সাক্ষী থাকল কেন্দ্র। সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন বিল) প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পাওয়ায় লোকসভায় পাশ হতে ব্যর্থ হলো।
অংকের হিসাবে যেখানে আটকে গেল সরকার: শুক্রবার লোকসভায় মোট ৪৮৯ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেন। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩২৬টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফলাফল আসতেই দেখা যায়:
বিলের পক্ষে ভোট: ২৯৮টি
বিলের বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি মাত্র ২৮টি ভোটের ব্যবধানে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রের পরিকল্পনা। এর ফলে ২০২৯ সাল থেকে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ এবং লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে লক্ষ্য ছিল, তা বিশ বাঁও জলে চলে গেল।
২১ ঘণ্টার বিতর্ক ও শাহের হুঙ্কার: এই বিলটি নিয়ে টানা ২১ ঘণ্টা বিতর্ক চলে সংসদে, যেখানে ১৩০ জন সাংসদ অংশ নেন। ভোটাভুটির আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “বিরোধীরা ভোট না দিলে বিলটি হেরে যাবে ঠিকই, কিন্তু দেশের নারীরা জেনে যাবেন কারা তাঁদের ক্ষমতায়নের পথে আসল বাধা।” কিন্তু শাহের এই ‘ইমোশনাল কার্ড’ বিরোধীদের এককাট্টা অবস্থানে কোনও ফাটল ধরাতে পারেনি।
রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া: বিলটি পরাজিত হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিজয়ী মেজাজে বলেন, “এটি আসলে কোনও নারী সংরক্ষণ বিল ছিল না, এটি ছিল সংবিধানের ওপর আক্রমণ এবং ভারতের নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের একটি কুৎসিত প্রচেষ্টা। আমরা সফলভাবে সেটিকে রুখে দিয়েছি।” কেন এই বিল নিয়ে এত আপত্তি? বিরোধীদের মূল আপত্তির জায়গা ছিল সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করা। বিরোধীদের দাবি, নারী সংরক্ষণের আড়ালে কেন্দ্র আসলে দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দিতে চাইছিল, যা ফেডারেল কাঠামোর ওপর আঘাত।
সদন মুলতবি: বড় এই পরাজয়ের পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ঘোষণা করেন যে, এই সংক্রান্ত বাকি দুটি বিলও আর আলোচনার জন্য আনা হবে না। এরপর স্পিকার ওম বিড়লা শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত লোকসভা মুলতবি করে দেন।





