মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এবার চরম পারদ চড়ল। ওয়াশিংটনের লাগাতার হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে এবার বিশ্বের এক নম্বর মহাশক্তিধর দেশ আমেরিকাকে সরাসরি যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করলে বা তাদের ওপর ফের কোনো রকম সামরিক হামলা হলে, তার পরিণতি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হবে।
ইরানের এই খোলাখুলি ও আগ্রাসী হুঁশিয়ারির পর পেন্টাগন তথা মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বাগযুদ্ধ যেকোনো মুহূর্তে এক বিধ্বংসী পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারে।
“আমেরিকা আগুন নিয়ে খেলছে!”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর কার্যালয় এবং সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমেরিকা যেন এটা মনে না রাখে যে তারা যা খুশি তাই করতে পারে। আমাদের ধৈর্যকে আমাদের দুর্বলতা ভাবলে মস্ত বড় ভুল করবে হোয়াইট হাউস। এবার যদি আমাদের সীমানায় একটাও ড্রোন বা মিসাইল ঢোকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত মার্কিন সেনা ঘাঁটি আমরা গুঁড়িয়ে দেব।”
কেন হঠাৎ এত ক্ষুব্ধ তেহরান?
সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর এবং সিরিয়া-ইরাক সীমান্তে মার্কিন সেনার লাগাতার ড্রোন হামলা এবং ইরানের তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর কড়া নজরদারির জেরেই দুই দেশের সম্পর্ক খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।
প্রক্সি ওয়ারের চরম রূপ: আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলোর দাবি, ইরান পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে।
পাল্টা কামড় ইরানের: ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তারা কোনো উস্কানি দিচ্ছে না, কিন্তু আক্রান্ত হলে তারা নিজেদের আধুনিক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (Ballistic Missiles) এবং হাইপারসনিক ড্রোন ব্যবহার করতে এক সেকেন্ডও দ্বিধা করবে না।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ: “ইরান ও আমেরিকার এই সংঘাত এখন আর কেবল কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান যেভাবে তাদের ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটিগুলোর মহড়া দেখাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমেরিকা যদি পাল্টা জবাব দিতে যায়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লাগবে এবং তা বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।”
আমেরিকার মতো মহাশক্তিকে ইরানের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জকে আপনি কীভাবে দেখছেন? তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি ধ্বংস ডেকে আনবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।





