বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার মাঝেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রেকর্ড গড়ল অপরিশোধিত তেল (Crude Oil)। গ্লোবাল সাপ্লাই বা বৈশ্বিক সরবরাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় দেশের ঘরোয়া ফিউচার মার্কেটে (MCX) অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম এখন ১০,১৫০ টাকায় ঠেকেছে, যা ভারতের ইতিহাসে এর আগে কখনও হয়নি।
কেন হঠাৎ এই অগ্নিমূল্য? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকাশছোঁয়া দামের পেছনে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ:
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা (Geo-political Tension): বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
উৎপাদন হ্রাস: বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো পরিকল্পিতভাবে তেল উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে জোগান নিয়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়েই ‘গ্লোবাল সাপ্লাই জিটার্স’ বা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দানা বাঁধছে।
পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি তবে বাড়ছে? অপরিশোধিত তেলের এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পর স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার মনে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি এবার দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে?
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দামের ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো প্রতিদিন সকালে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০ হাজার টাকা পার করে যাওয়ায়, আগামী দিনগুলোতে ভারতের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। আর এমনটা হলে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারের ওপর, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
আপাতত সবার নজর রয়েছে সরকারি পদক্ষেপ এবং তেল সংস্থাগুলির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।





