“আমাদের দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে!” আপ ছাড়তেই কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাঘব চড্ডা

আম আদমি পার্টি (AAP) যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। রাঘব চড্ডা-সহ দলের ৭ হেভিওয়েট সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দল ছাড়ার পর আজ প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর নীতি নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন রাঘব চড্ডা।

‘দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে’

রাঘব চড্ডার দাবি, তাঁরা স্বেচ্ছায় নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে পড়ে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দিকে। রাঘবের কথায়:

“যাঁরা রক্ত জল করে আম আদমি পার্টি গড়ে তুলেছিলেন, আজ তাঁরা হয় দল ছেড়ে দিয়েছেন অথবা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিশ্রমী কর্মীদের জন্য এই দলে আর কোনও জায়গা নেই। কেজরিওয়ালের নীতির কারণেই আজ এই দশা।”

ব্যর্থ কেজরিওয়ালের ‘ডিনার পলিটিক্স’

সূত্রের খবর, রাঘব-সহ সাত সাংসদ যে দল ছাড়তে পারেন, তার আঁচ আগেই পেয়েছিলেন কেজরিওয়াল। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন। এমনকি ৫ জন সাংসদকে ফের রাজ্যসভায় পাঠানোর টোপ-ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই সবাইকে চমকে দিয়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখান রাঘব, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল ও সন্দীপ পাঠকরা।

লক্ষ্য যখন ‘শিশমহল’ বিতর্ক

দিল্লির রাজনীতিতে কেজরিওয়ালের বাসভবন সংস্কার নিয়ে তৈরি হওয়া ‘শিশমহল’ বিতর্ককে ফের উসকে দিয়েছেন রাঘব। তাঁর দাবি:

  • দুর্নীতির গ্রাস: আম আদমি পার্টি এখন দুর্নীতিগ্রস্তদের হাতে পড়ে গিয়েছে।

  • জনপ্রিয়তায় ধস: ‘শিশমহল’ বিতর্কের জেরে সাধারণ মানুষের কাছে কেজরিওয়ালের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

  • নির্বাচনী বিপর্যয়: রাঘবের মতে, আগামী দিল্লি নির্বাচনে আপ-এর সম্ভাব্য পরাজয়ের মূল কারণ হবে এই দুর্নীতি এবং জনবিচ্ছিন্নতা।

রাঘব চড্ডা, হরভজন সিং এবং স্বাতী মালিওয়ালের মতো পরিচিত মুখগুলো দল ছাড়ায় ২০২৬-এর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে আম আদমি পার্টি যে বড়সড় সংকটে পড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy