৪ মে ভোটের ফল প্রকাশ। তার আগেই কি বাংলায় ফের হতে চলেছে পুনর্নির্বাচন? গত দুই দফার ভোটে একাধিক জায়গা থেকে ইভিএম (EVM) কারচুপি এবং বুথ জ্যামিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিতর্কের জল এবার গড়াল বহুদূর। সূত্রের খবর, ‘বিতর্কিত’ বুথগুলোর ভাগ্য নির্ধারণে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষক বা স্পেশাল অবজার্ভারদের (Special Observers) মাঠে নামাল নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে কোথায় কোথায় রি-পোল (Re-poll) হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কমিশন।
বিশেষ নজরদারিতে ‘বিতর্কিত’ ইভিএম
ভোটের দিন যে সমস্ত ইভিএম নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছিল কিংবা যেগুলোর সিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলো, সেই মেশিনগুলোকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ পর্যবেক্ষকরা এই ইভিএমগুলোর প্রতিটি তথ্য তথা ‘ফর্ম ১৭-এ’ (Register of Voters)-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। ভোটার তালিকার সঙ্গে ইভিএম-এ পড়া ভোটের সংখ্যায় সামান্যতম গরমিল ধরা পড়লেই সংশ্লিষ্ট বুথে ভোট বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।
কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, স্ক্রুটিনি বা স্ক্রিনিংয়ের প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে করা হচ্ছে। প্রথম দফায় নজিরবিহীনভাবে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বর্তমানে:
যে সব বুথে হিংসার খবর পাওয়া গেছে, সেখানে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাইক্রো-অবজার্ভারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বুথগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই কয়েক’শ বুথে রি-পোলের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ
গণনার মাত্র কয়েকদিন আগে কমিশনের এই কড়াকড়ি স্বভাবতই শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু আসনে যেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা, সেখানে কয়েকটি বুথের পুনর্নির্বাচন পুরো ফলাফল পাল্টে দিতে পারে।
কমিশন সূত্রে খবর, আগামিকাল বা পরশুই রি-পোলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোট করিয়ে নিয়ে ৪ মে নির্ধারিত সময়েই গণনার কাজ শুরু করতে চায় কমিশন। আপনার এলাকায় কি ফের ভোট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত।
ভোটের প্রতি মুহূর্তের খবরের জন্য চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট (DailyHunt)-এ।





