মমতার দুর্গে গেরুয়া সুনামি? চাণক্যের মরণ কামড়ে ১৯২ আসন বিজেপির! কার্যত দিশেহারা বাকিরা

শেষ হয়েছে ভোটযুদ্ধ, এবার শুরু হয়েছে স্নায়ুর লড়াই। সোমবারের চূড়ান্ত ফলাফলের আগে বুধবার রাত থেকেই বাংলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ‘এক্সিট পোল’ বা বুথফেরত সমীক্ষা। আর এই সমস্ত সমীক্ষার ভিড়ে সবচেয়ে বড় ‘বোমা’টি ফাটিয়েছে বিখ্যাত সমীক্ষক সংস্থা ‘টুডেজ চাণক্য’ (Today’s Chanakya)। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-এ বাংলার মসনদে একপ্রকার নিশ্চিতভাবেই বসতে চলেছে বিজেপি।

চাণক্যের ‘বিস্ফোরক’ পরিসংখ্যান: সমীক্ষা বলছে, এবার বাংলায় প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি। আসনের হিসেবে যা দাঁড়াতে পারে ১৯২ (± ১১)। অর্থাৎ, ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-এর থেকে অনেক বেশি আসন নিয়ে নবান্ন দখলের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সংস্থা।

অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই সমীক্ষা বেশ উদ্বেগের। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ১০০ (± ১১) আসনের আশেপাশে থমকে যেতে পারে। বাম-কংগ্রেস সহ অন্যান্য শিবিরের ঝুলিতে যেতে পারে মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট, যার ফলস্বরূপ ২ (± ২) টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

অন্যান্য সমীক্ষার চিত্র: শুধু টুডেজ চাণক্য নয়, ‘ম্যাট্রিজ’ এবং ‘পি-মার্ক’-এর মতো সংস্থাও বিজেপিকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। তাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটিতে এবার ধস নামার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সব সমীক্ষাই এক কথা বলছে না। ‘পিপলস পালস’ এবং ‘জনমত’-এর মতো সংস্থাগুলো আবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের পক্ষেই বাজি ধরছে।

নির্ণায়ক হবে ‘সাইলেন্ট ভোটার’: রাজনীতিবিদদের মতে, এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে ‘সাইলেন্ট ভোটার’ বা নীরব ভোটাররা। প্রচারের আলোয় যারা মুখ খোলেননি, তাঁদের ইভিএম-বন্দি রায়ই উল্টে দিতে পারে সমস্ত চাণক্যের গণিত।

ভোটের ফল যাই হোক, এক্সিট পোলের এই পরিসংখ্যান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যে তীব্র কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, ৪ তারিখের প্রকৃত ফলাফল চাণক্যের ভবিষ্যৎবাণীকে সত্যি করে নাকি কোনো নতুন ‘মিরাকল’ দেখা যায় বাংলায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy