“লিখে নিন, ২০২১-এর রেকর্ড ভাঙবে তৃণমূল!”-গণনার আগে বিজেপি ও কমিশনকে বেনজির আক্রমণ অভিষেকের

ভোট মিটতেই এবার গণনার মহাপ্রস্তুতি শুরু করে দিল শাসক শিবির। শনিবার বিকেলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের নিয়ে একটি হাই-ভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এই বৈঠক থেকেই ৪ঠা জুনের রণকৌশল স্থির করে দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের জয়ের টনিক দিলেন তৃণমূলের শীর্ষ দুই নেতৃত্ব।

“শেষ না দেখে বেরোবেন না”, কড়া নির্দেশ মমতার

বৈঠকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে ধরা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল এবার ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে। তবে জয়ের আনন্দের চেয়েও গণনাকেন্দ্রে সতর্ক থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে তাঁর সাফ নির্দেশ— গণনা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই গণনাকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। প্রতিটি রাউন্ডের হিসেব বুঝে নিতে হবে সতর্কভাবে।

৩০০ ভোটের ব্যবধান ও পুনর্গণনা

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য যে ৭৭টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে, তার প্রতিটিতেই বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করছে তৃণমূল। এদিনের বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল স্থির করা হয়েছে— যদি কোনো কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ২০০ থেকে ৩০০-র মতো সামান্য থাকে, তবে সেখানে তৎক্ষণাৎ ‘রি-কাউন্টিং’ বা পুনর্গণনার আবেদন জানাতে হবে। এই প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ নিয়োগ করেছে দল।

“লড়াইটা ছিল তৃণমূল বনাম কেন্দ্রীয় বাহিনী”: অভিষেক

এদিনের বৈঠকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সব ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণে বাধ্য হলো। এবার লড়াইটা ছিল আদতে তৃণমূল বনাম কেন্দ্রীয় বাহিনীর।” সংবাদমাধ্যমে দেখানো বুথফেরত সমীক্ষাকে উড়িয়ে দিয়ে তাঁর দাবি, “বিজেপিও জানে তারা সরকার গড়তে পারছে না। আপনারা নোট করে নিন— ২০২১ সালের তুলনায় তৃণমূল এবার আরও বেশি আসন পেয়ে ফিরছে।”

সতর্কবার্তা ও সাসপেনশন

গণনার আগে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে এই বৈঠক থেকে। প্রসঙ্গত, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল হওয়ার জেরে এদিনই কালীঘাট থানার ওসি-কে সাসপেন্ড করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সামগ্রিকভাবে, গণনাকেন্দ্রে এক ইঞ্চি জমিও বিরোধীদের ছাড়তে নারাজ তৃণমূল। বুথফেরত সমীক্ষার মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাটিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করাই ছিল শনিবারের এই মেগা বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy