৪৫ দিনের ডেডলাইন! অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করতে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে এবার বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সীমান্ত সুরক্ষায়। সেই নির্দেশ মেনেই মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কাঁটাতারের বেষ্টনীতে মুড়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুরের নেতৃত্বে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

৪৫ দিনের ডেডলাইন: যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি

বৈঠক শেষে জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানান, সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ-এর কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। মালদা জেলার ১৭১ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকা এখনও অরক্ষিত। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় ত্রিস্তরীয় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য অন্তত ২৬০ একর জমির প্রয়োজন।

ইতিমধ্যেই জমি জরিপের কাজে জেলা প্রশাসনের সাতটি বিশেষ দল ময়দানে নেমেছে। প্রশাসনের দাবি, জমি অধিগ্রহণের জন্য গত বছরই রাজ্য সরকারের তরফে ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, কিন্তু জমি জটে কাজ থমকে ছিল। এখন নতুন সরকারের নির্দেশে সেই জট কাটিয়ে দ্রুত জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার কাজ চলছে।

নজরে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের অগ্রাধিকার

উল্লেখ্য, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারংবার দাবি করেছিলেন যে, বাংলায় সরকার পরিবর্তন হলেই প্রথম কাজ হবে সীমান্ত অনুপ্রবেশ রোখা। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন। জেলাশাসকের কথায়, “এখন থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং বিএসএফ-এর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় বজায় থাকবে।”

সুকদেবপুর জট কি কাটবে?

সম্প্রতি কালিয়াচকের সুকদেবপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে গিয়ে চরম বাধার মুখে পড়েছিল বিএসএফ। অভিযোগ উঠেছিল, বাংলাদেশের নাগরিকরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসক জানিয়েছেন, সুকদেবপুর-সহ সমস্ত অরক্ষিত সীমান্তের তালিকা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে সুকদেবপুরেই প্রথম কাজ শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুকদেবপুর সীমান্তে বিএসএফ এবং বিজিবি-র (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) যৌথ পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। মালদার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার ও অনুপ্রবেশ রুখতে এই ‘কাঁটাতার প্রকল্প’ বড় সাফল্য আনবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy