সন্তান ধারণে সমস্যার কথা উঠলেই আমাদের সমাজে বেশিরভাগ সময় নারীর শারীরিক জটিলতাকে দায়ী করা হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বন্ধ্যত্বের সমস্যায় পুরুষও সমানভাবে দায়ী থাকতে পারেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ার পেছনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ-সম্পর্কিত সমস্যাই প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমানোর জন্য দায়ী। জেনে নিন আপনার কোন অভ্যাসগুলো নীরবে বাবা হওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে:
পুরুষের উর্বরতা কমানোর ৫ প্রধান কারণ:
১. ধূমপান ও মদ্যপান: সিগারেটের নিকোটিন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং ডিএনএ-এর মারাত্মক ক্ষতি করে। একইভাবে, অতিরিক্ত মদ্যপান টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে যৌনক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
২. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা শুক্রাণু উৎপাদনে বাধা দেয়। এছাড়া, টেস্টোস্টেরন হরমোন মূলত ঘুমের সময় তৈরি হয়; তাই অনিয়মিত ঘুম উর্বরতা নষ্টের অন্যতম কারণ।
৩. প্রযুক্তির অপব্যবহার: দীর্ঘসময় পকেটে স্মার্টফোন রাখা বা কোলে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা শুক্রাণুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ল্যাপটপের অতিরিক্ত তাপ এবং ফোনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
৪. অতিরিক্ত ওজন: স্থূলতা শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
৫. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর বদলে খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ শাকসবজি, ফলমূল ও মাছ রাখা জরুরি।
কখন সতর্ক হবেন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
লজ্জা বা সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই বিষয়টি গোপন রাখেন, যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
এক বছর নিয়মিত চেষ্টার পরেও সন্তান না হওয়া।
যৌন আগ্রহ বা ক্ষমতা কমে যাওয়া।
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলাভাব অনুভব করা।
দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভোগা বা ধূমপানে আসক্ত থাকা।





