দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই কার্যত বারুদের স্তূপে বসে পরিবহণ ও শ্রম দফতরের হাল ধরলেন নতুন মন্ত্রী অর্জুন সিং। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সরাসরি আগের সরকারের বিরুদ্ধে বাস ডিপোর জমি আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন।
জমি চুরির তদন্তের ইঙ্গিত: অর্জুন সিং বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ‘পিসি-ভাইপো’র আমলে সরকারি বাস ডিপোর জমি বেআইনিভাবে বিক্রি ও দখল করা হয়েছে। আমি ফাইলগুলো খুঁজে দেখব। যদি কোনো অনিয়ম বেরিয়ে আসে, তবে তা জনসমক্ষে আনব এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে।
পরিবহণ পরিষেবায় আমূল পরিবর্তনের ডাক: রাস্তায় সরকারি বাস না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে অর্জুন সিং বলেন, ‘‘মানুষের মূল ক্ষোভ বাসের অভাব নিয়ে। দায়িত্ব নিয়েই আমার প্রথম প্রায়োরিটি হবে বাসের সংখ্যা বাড়ানো।’’ তিনি আরও জানান:
ইলেকট্রিক বাস: পরিবেশবান্ধব আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি: সরকারি বাস পরিষেবার ‘তেল চুরি’, রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি এবং চালক-শ্রমিকদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
কর্মপদ্ধতি: খুব শীঘ্রই দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
শ্রমিকদরদী অর্জুন: পরিবহণের পাশাপাশি শ্রম দফতরের দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজে শ্রমিক ইউনিয়ন করে এসেছি, তাই শ্রমিকদের সমস্যাগুলো খুব ভালো করে বুঝি। শ্রম দফতর দীর্ঘসময় ধরে অবহেলিত ছিল, সেখানে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।’’
মহিলাদের জন্য বিশেষ বার্তা: পূর্বতন সরকারের নেওয়া মহিলাদের বিনামূল্যে বাস যাতায়াতের প্রকল্পটিকে তিনি একটি ‘জনকল্যাণমূলক প্রজেক্ট’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ আরও সঠিকভাবে পায়, সেদিকে নজর রাখা হবে।
সব মিলিয়ে, অর্জুন সিং-এর এই ‘ক্লিনআপ’ অভিযান কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সরকারি বাস পরিষেবা কি তবে এবার আগের মতো ছন্দে ফিরবে? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।





