দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের ‘অন্ধকার’ দিকটি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নতুন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়। রাজ্যের শিল্পায়নের স্থবিরতা কাটাতে তিনি একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তথ্যাভিজ্ঞ পরিসংখ্যানে চাঞ্চল্য: শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তাপস রায় একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৬,৬৮৮টি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্প সংস্থা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সরকার শিল্পের প্রসারে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র কিছু লোকদেখানো প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত ছিল, যার ফলেই রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে।
টাটাকে ফেরানোই মূল লক্ষ্য: শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল টাটা গোষ্ঠী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে শিল্পের হারানো গৌরব ফেরাতে টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন অপরিহার্য। তাপস রায়ের কথায়, “টাটার মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী ফিরে এলে রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে। আমার সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো তাঁদের আবার পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা।”
শিল্প ফেরাতে মন্ত্রীর ‘থ্রি-পয়েন্ট’ ফর্মুলা: শিল্পপতিদের আস্থা অর্জনে মন্ত্রী তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন: ১. প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ: ব্যবসার ক্ষেত্রে সরকারি লাল ফিতের ফাঁস আলগা করা। ২. নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: শিল্পপতিরা যাতে নির্ভয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন, তার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন। ৩. বাস্তবসম্মত উদ্যোগ: নীতি ঘোষণার চেয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা।
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানই পাখির চোখ: তাপস রায় বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন, এই সরকার তা-ই করবে।”
নতুন শিল্পমন্ত্রীর এই অনমনীয় মনোভাব এবং সরাসরি শিল্পস্থাপনের ডাক রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, তাঁর এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না এবং এর ফলে সত্যিই রাজ্যে নতুন শিল্পের জোয়ার আসে কি না।





