গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ‘ওভুলেশন’ (Ovulation)। প্রতি মাসে নারীর ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ক ডিম্বাণু নির্গত হয়। এই ডিম্বাণু কেবল ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা জীবিত থাকে। এই সময়ের মধ্যে শুক্রাণুর সাথে মিলন হলেই কেবল গর্ভধারণ সম্ভব।
১. ওভুলেশন কবে হয়?
যাদের মাসিক চক্র নিয়মিত (২৮ দিনের), তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত পরবর্তী পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১৪ দিন আগে ওভুলেশন ঘটে। অর্থাৎ, আপনার পিরিয়ড যদি মাসের ১ তারিখে শুরু হয়, তবে ১৪ বা ১৫ তারিখ নাগাদ আপনার ডিম্বাণু নিঃসরণ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
২. ‘ফারটাইল উইন্ডো’ বা সবথেকে উর্বর সময়:
শুক্রাণু নারীর শরীরে ৫ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। তাই ওভুলেশনের দিনের ঠিক ৫ দিন আগে থেকে ওভুলেশনের দিন পর্যন্ত সময়কে বলা হয় গোল্ডেন পিরিয়ড। এই সময়ের মধ্যে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ বেড়ে যায়।
৩. শরীর দেখে বোঝার উপায়:
ক্যালেন্ডার ছাড়াও আপনার শরীর কিছু সংকেত দেবে:
মিউকাস পরিবর্তন: জরায়ু মুখ থেকে নির্গত তরল বা সাদা স্রাব এই সময় অনেকটা কাঁচা ডিমের সাদা অংশের মতো পিচ্ছিল ও স্বচ্ছ হয়ে যায়।
শরীরের তাপমাত্রা: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
হালকা ব্যথা: অনেকের তলপেটের একপাশে সামান্য চিনচিনে ব্যথা হতে পারে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
যাদের পিরিয়ড অনিয়মিত, তাদের ক্ষেত্রে এই হিসাব কিছুটা কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওভুলেশন কিট ব্যবহার করা বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, মানসিক চাপমুক্ত থাকা এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণ এই প্রক্রিয়ার সফলতাকে ত্বরান্বিত করে।





