ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথেই বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী বিধিভঙ্গ এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ সরকারি কর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের আবহে পরিস্থিতি টানটান, সেখানে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? সূত্রের খবর, ভবানীপুর উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন ওই ৩ কর্মীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। কমিশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়ে যে, ভোট সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ফিল্ড ডিউটির ক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত নিয়ম মানেননি। বিশেষ করে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) এবং বুথ স্তরের ব্যবস্থাপনায় বড়সড় অসঙ্গতি পাওয়া যাওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের তির কোথায়? কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ জমা পড়েছিল। প্রাথমিক তদন্তের পর জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) সুপারিশেই দিল্লির নির্দেশে তাদের সাসপেন্ড করা হয়। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— “নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আপস বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।”
প্রশাসনিক তোলপাড়: সাসপেন্ড হওয়া ওই ৩ কর্মীর জায়গায় নতুন আধিকারিকদের নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, ওই এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যাতে কোনো ধরনের অশান্তি বা কারচুপি না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চাইছে কমিশন।
এই ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের অন্যান্য নির্বাচনী কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই প্রশাসনিক রদবদলের কোনো প্রভাব পড়ে কি না।





