ভারতীয় দাবার দুনিয়া থেকে এল এক দুর্দান্ত সুখবর। ভারত পেল তার ৯৫তম গ্র্যান্ডমাস্টার (GM), আর এই সাফল্যে গর্বিত আপামর বাঙালি। কলকাতার ২২ বছর বয়সী তরুণ অরণ্যক ঘোষ দাবার বোর্ডে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের দাবার মুকুটে নতুন পালক যোগ করলেন।
ধৈর্য ও অধ্যাবসায়ের জয়:
অরণ্যকের এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তৃতীয় তথা চূড়ান্ত জিএম নর্মটির জন্য তাঁকে দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে ব্যাংকক চেস ক্লাব ওপেনে ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট পেয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করে বহু প্রতীক্ষিত এই খেতাব অর্জন করেন তিনি। এর আগে ২০২৩ সালে সান্তস ওপেন এবং ২০২৪ সালে অ্যানমাস মাস্টার্সে তাঁর প্রতিভা বিশ্ব দেখেছে।
নেপথ্যের লড়াই ও পারিবারিক পটভূমি:
কলকাতার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা অরণ্যকের রক্তেই ছিল দাবা। তাঁর বাবা মৃণাল ঘোষ একসময় দাবার দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে তিনি একজন আরবিট্রেটর। মা সঞ্চিতা ঘোষ পেশায় আইনজীবী। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন ছেলেকে দিয়ে পূরণ করতে দেখে আবেগপ্রবণ বাবা মৃণালবাবু। তিনি জানিয়েছেন, পারিবারিক সম্পত্তির চেয়েও ছেলের এই খেতাব তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের কর্মী অরণ্যক বর্তমানে প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের স্নাতক স্তরের ছাত্র।
দাবার বোর্ডে ‘রহস্যময়’ চাল:
অরণ্যক দাবার জগতে পরিচিত তাঁর অদ্ভুত ও অপ্রচলিত চালের জন্য। একঘেয়েমি কাটাতে তিনি প্রায়ই দাবার বোর্ডে এমন কিছু নতুন ওপেনিং ট্রাই করেন যা প্রতিপক্ষকে অবাক করে দেয়। এমনকি বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু হ্যান্স নিম্যানকেও একবার নিজের চালে কুপোকাত করেছিলেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৬ বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয়ের মাধ্যমে তাঁর জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তাঁর স্ট্যান্ডার্ড রেটিং ২৫৩৩ এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিনি ৪০১তম স্থানে রয়েছেন।
বিদেশের প্রশিক্ষণ ও আগামীর স্বপ্ন:
অরণ্যক তাঁর ক্যারিয়ারে বাংলাদেশি কোচ ‘জিও স্যার’, বিখ্যাত আর বি রমেশ এবং দেজান বয়কোবলের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০২৫ সালের ফিদে বিশ্বকাপের জন্য তিনি ইতিমধ্যেই যোগ্যতা অর্জন করেছেন। গত মাসেই ভারতের জাতীয় র্যাপিড চ্যাম্পিয়ন হওয়া অরণ্যক এখন লক্ষ্য স্থির করেছেন ২৫৫০ রেটিংকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার।





