হাঁটুর চোটে শেষ কেরিয়ার! শূন্য থেকে শুরু করে কোরিয়া মাস্টার্স জিতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের অস্মিতা

ব্যাডমিন্টনের কোর্টে ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপহার দিলেন উদীয়মান শাটলার অস্মিতা চালিহা। কোরিয়া মাস্টার্সে দুর্দান্ত খেতাব জয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের কেরিয়ারের প্রথম বিডব্লিউএফ (BWF World Tour) টুর্নামেন্টই জেতেননি, বরং সাইনা নেহওয়াল ও পিভি সিন্ধুদের মতো কিংবদন্তিদের বিশেষ ক্লাবে নিজের নাম পাকা করে ফেলেছেন। তবে এই মুকুট সহজে আসেনি; এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ, কণ্টকাকীর্ণ ও অদম্য লড়াইয়ের উপাখ্যান, যা কোটি কোটি যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করবে।
২০২৪ সালের অগস্টে কোরিয়া ওপেনে খেলার সময় তাঁর হাঁটুতে মারাত্মক চোট লাগে। মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁর সফল অস্ত্রোপচার হয়। এর জেরে প্রায় আট মাস সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতার বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তাঁর অবনতি ঘটে এবং তিনি শীর্ষ দুশোর বাইরে চলে যান। ছাব্বিশতম জন্মদিনের ঠিক আগে যখন চরম দুর্দিন চলছিল, তখন একে একে সব স্পনসরও মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর্থিক অনটন এবং অনিশ্চয়তার মেঘে ঢেকে গিয়েছিল তাঁর কেরিয়ার। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অস্মিতা সেই কঠিন সময়ে বেঙ্গালুরু ছেড়ে গুয়াহাটিতে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে (NCOE) যোগ দেন।
এনসিওই-র পরিবেশ এবং কঠোর পরিশ্রম তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অস্মিতা জানান, শূন্য থেকে শুরু করে নিজের মানসিক এবং শারীরিক অবস্থার ওপর তাঁকে প্রচুর কাজ করতে হয়েছে। চোটের কারণে সৃষ্ট মানসিক অবসাদ ও হতাশা কাটিয়ে তিনি নিজের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন আনেন। যেখানে তাঁর সহজাত আক্রমণাত্মক মেজাজ ছিল পরিচিতি, সেখানে তিনি ধৈর্য ধরে লম্বা র্যালি খেলা এবং সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় থাকার কৌশল রপ্ত করেন। ফিটনেস ও স্ট্যামিনা বাড়ানোর জন্য তিনি ঘাম ঝরিয়েছেন নিরলসভাবে। হাঁটুতে স্ট্র্যাপ বেঁধে ঝুঁকি নিয়েই তিনি কোর্টে নেমেছিলেন এবং মালয়েশিয়া সুপার ৫০০-র কোয়ার্টার ফাইনাল ও ম্যাকাও ওপেনের সেমিফাইনালে পৌঁছে নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
অবশেষে কোরিয়া মাস্টার্সের ফাইনালে চিনা প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে যখন তিনি শিরোপা নিশ্চিত করেন, তখন জয়ের মুহূর্তটিতে তাঁর মনে এক অদ্ভুত শূন্যতা ও চরম স্বস্তি কাজ করেছিল। দীর্ঘ আট মাসের যন্ত্রণা এবং বঞ্চনার পর এই জয় প্রমাণ করেছে যে জেদ আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব। এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি তাঁর বাবা-মা এবং কোচ পার্ককে উৎসর্গ করেছেন। অস্মিতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই জয় তাঁর ভেতরের খিদে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি এখানেই থামতে নারাজ। আগামী দিনে আরও বড় খেতাব জয়ই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।