‘হাত-পা বেঁধে পেরেক ঠুকে খুন!’ হালিশহরের মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগে কেঁপে উঠল রাজ্য!

রবিবার রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে হালিশহরের মাটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলার ঘটনার পরই সোমবার সরাসরি মৃত তৃণমূলকর্মীর নিজ বাড়িতে হাজির হলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক তরজা এবং একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার যখন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সরাসরি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছন, তখন সেখানে এক আবেগঘন ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সমস্ত পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে শোনেন এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। এর মাঝেই সামনে এসেছে মৃত ওই তৃণমূলকর্মীর স্ত্রীর একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকার, যা এই পুরো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিহতের স্ত্রী তাঁর স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বহু অজানা তথ্য ফাঁস করেছেন।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত কর্মীর স্ত্রী অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামী তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কীভাবে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে জানান যে, তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করার পর থেকে শুরু করে হাসপাতালে ফেলে রাখা পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কখনোই তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সৌজন্যমূলক সাহায্য করেনি। নিহতের স্ত্রীর শরীরে পৈশাচিক নির্যাতনের যে ভয়াবহ বিবরণ তিনি তুলে ধরেছেন, তা শুনলে যে কারো রক্ত হিম হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন যে, তাঁর স্বামীর হাত-পা সুনির্দিষ্টভাবে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর পায়ে পেরেক গেঁথে দেওয়া হয়েছিল এবং গরম জলের ছাঁকা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এমনকি তাঁর স্বামীর কানের পেছনের অংশে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার চিহ্নও পরিষ্কার দেখা গিয়েছে। এই পৈশাচিক অত্যাচারের ঘটনার যথাযথ বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তিনি এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এই পুরো মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও দোষারোপের পালা। একদিকে যেমন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলা এবং কালিয়াঘাট তৃণমূলের প্রতিবাদী কর্মসূচি রাজ্যজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে মৃত কর্মীর পরিবারের এই লড়াই এবং আইনি লড়াইয়ের তীব্রতা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমানসে নানা প্রশ্ন উঠলেও নিহতের স্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি হালিশহর স্থানীয় প্রশাসনের কিছু নির্দিষ্ট কর্তাব্যক্তির ওপর ক্ষুব্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় পুলিশ প্রশাসনের ওপর ভরসা রাখতে চান। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই মুহূর্তে শোকার্ত পরিবারটিকে আইনি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটাই প্রশ্ন—আসলে কি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত দোষীরা কড়া শাস্তির মুখে পড়বে? আপাতত সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী দিনের পুলিশি তদন্ত এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর।