হাসপাতালে যাওয়ার আগে এই কাজটি করেছেন তো? বড় ভুল করলে পকেট ফাঁকা হবে!

রোগী সাধারণের সুরক্ষায় এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি লোকসভায় একটি লিখিত জবাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা। সরকারের এই অভূতপূর্ব কড়া পদক্ষেপ দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চিকিৎসা পরিষেবা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি গভীর প্রভাব ফেলবে। সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যে সমস্ত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কিংবা যাদের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, তারা আর কোনোভাবেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা প্রদান করতে পারবে না। অতএব, আপনি কিংবা আপনার পরিবারের কোনো সদস্য যদি কোনো সরকারি অথবা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে থাকেন, তবে হাসপাতালে পা রাখার আগে অবশ্যই অনলাইনে যাচাই করে দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি যে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটি বর্তমানে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অধীনে বৈধভাবে নিবন্ধিত রয়েছে কি না। সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো রকম অনিয়মকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই নীতির বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী হাসপাতালগুলির ওপর মোট ৩২৮.৪৯ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ২৯টি গুরুতর ক্ষেত্রে সরাসরি পুলিশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলির এই বিশাল আকারের এবং জটিল জালিয়াতির জাল ভেদ করতে এবার এক অভিনব ও তাক লাগানো প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করেছে কেন্দ্র সরকার। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হাসপাতালগুলোর এই নজিরবিহীন জালিয়াতি সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই অভিনব জালিয়াতি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি বা এনএইচএ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ত্রুটিহীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। কোনো হাসপাতাল যদি সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা জাল বিল জমা দেয়, একই রোগীর নামে একাধিক দ্বৈত বিল তৈরি করে, পরিচয়পত্রের অপব্যবহার করে, অথবা রোগীর ওপর অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত চিকিৎসা পরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে এই সুসংহত প্রযুক্তি ব্যবস্থা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়। এই উচ্চপ্রযুক্তির সুবাদে সরকার কোনো রকম আর্থিক অর্থ পরিশোধ করার আগেই জালিয়াতিপূর্ণ বিলগুলোর গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাটি ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে একার হাতে সরকারকে প্রায় ৬৭৬.১৪ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই আপসহীন এবং কঠোর অভিযান অবিরাম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি কোণায় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটির দ্রুত সম্প্রসারণ ও প্রসার বজায় রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ৩.৭৫ কোটি নতুন আয়ুষ্মান কার্ড সফলভাবে ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ২.৭৪ কোটি মুমূর্ষু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির আবেদন এবং চিকিৎসার জন্য সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের দরিদ্র মানুষের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্যকে আর্থিক অনুদান হিসেবে মোট ৮,৪৩৮.২৭ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এই ক্ষেত্রে দেশের সমস্ত রাজ্যকে পেছনে ফেলে উত্তর প্রদেশ একেবারে শীর্ষস্থান দখল করেছে, যেখানে প্রায় ৩০.৬ লক্ষ রোগীর সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে মোট ১,০৪৭.৫৩ কোটি টাকার অনুদান পাওয়া গেছে।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বর্তমান নিয়মানুযায়ী, দেশের প্রতিটি যোগ্য দরিদ্র পরিবার প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকে। এই সুবিশাল ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ১,৯০০-রও বেশি জটিল রোগ এবং জীবনদায়ী অস্ত্রোপচার সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ই আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশ জুড়ে মোট ৩৮,৪৩৭টি মানসম্মত হাসপাতাল এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২০,৩৬৩টি সরকারি হাসপাতাল এবং ১৮,০৭৪টি বেসরকারি হাসপাতাল নিজেদের পরিসেবা দিয়ে চলেছে। সুতরাং, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার বিকল্পের কোনো ঘাটতি নেই। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রাক্কালে শেষ মুহূর্তের যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর জটিলতা ও হয়রানি এড়াতে, আপনার স্থানীয় হাসপাতালে যাওয়ার ঠিক আগে কেবল ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির পোর্টালে গিয়ে হাসপাতালের বর্তমান লাইসেন্স ও বৈধতার অবস্থাটি ঝালিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।