হরমুজের দিন শেষ! সরাসরি রাশিয়া থেকে ভারতে আসবে ট্রেন? জানুন পুতিনের মেগা রেল প্ল্যান

সমুদ্রপথের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কাটাতে এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার সরাসরি ভারত মহাসাগরের সঙ্গে রেল যোগাযোগের এক অভাবনীয় পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে মস্কো। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মরাত খুস্নুলিন সম্প্রতি এক বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান বিশ্বে বসফরাস প্রণালী এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলি চরম ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং ব্যস্ততম সামুদ্রিক রুট, যেখান দিয়ে নিয়মিত বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ২০ শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পরিবাহিত হয়। এই রুটগুলিতে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক সংঘাতের অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জ্যামিতিক অনিশ্চয়তা এড়াতেই সমুদ্রের বদলে নিরাপদ বিকল্প স্থলপথ বা রেল রুট খোঁজার ওপর তীব্র জোর দিচ্ছে রুশ প্রশাসন।
রাশিয়ার সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মহলের প্রস্তাবিত এই রুটটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ রেল করিডোরটি রাশিয়া থেকে শুরু হয়ে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান হয়ে সরাসরি ভারতে এসে পৌঁছবে। এর ফলে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। তবে এই মুহূর্তে এই মেগা প্রকল্পটি কেবল একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনার স্তরেই রয়েছে। রাশিয়া কিংবা ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো ট্রেন চলাচল, নির্দিষ্ট রুট ম্যাপিং, ভাড়ার কাঠামো কিংবা প্রকল্প চালুর চূড়ান্ত তারিখ নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। সরকারিভাবে এর কোনো আইনি নিশ্চয়তা বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এই রেল করিডোরটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক বিরাট বিপ্লব ঘটাবে। রাশিয়া তখন জলপথের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করেই সরাসরি স্থলপথে দ্রুত পণ্য পরিবহণ করতে পারবে। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেত্রেও এই রেল রুটটি চালু হলে রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার বাকি দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও অনেক বেশি সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতে এই দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতায় নিরবচ্ছিন্ন সড়ক বা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।