প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পর এবার সোজা মৃত কর্মীর ঘরে! হালিশহর কাণ্ডে বড় ঘোষণা মমতার!

রবিবার যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনায় পারদ চড়েছিল হালিশহরের মাটিতে, ঠিক তার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সরাসরি মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওতের নিজ বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই আকস্মিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। শোকস্তব্ধ পরিবারের শোবার ঘরে প্রবেশ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের গভীর সমবেদনা জানান এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাথার ওপর হাত রেখে সর্বতোভাবে পাশে থাকার এক জোরালো ও অভয়বাণী শোনান। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ একান্ত আলাপচারিতা সেরে বেরিয়ে আসার সময় হালিশহরের জনসভায় দাঁড়িয়ে একাধিক অত্যন্ত বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক ঘোষণা করেন তিনি, যা মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নিহত তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওতের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর জেরে অথৈ জলে পড়া তাঁর অসহায় স্ত্রীকে অবিলম্বে একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ওই মহিলার জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করতে তাঁকে প্রশাসনিকভাবে ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ পদে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে চাকরি দেওয়া হবে। শুধু কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসই নয়, এর পাশাপাশি শোকার্ত ও বিপর্যস্ত পরিবারটির তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকট দূর করার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে সরাসরি ১০ লক্ষ টাকার একটি বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একঝাঁক জনকল্যাণমূলক ঘোষণা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতি ও বিরোধীদের কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।