লর্ডসে ২২ বছরের অভিশাপ কাটবে কি? সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ইতিহাস বদলের লড়াইয়ে গিল ব্রিগেড!

ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন উত্তেজনার চরম শিখরে। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ শেষে ফলাফল ১-১ হওয়ায়, তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি কার্যত ‘ফাইনাল’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই লড়াইটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ক্রিকেটের মক্কা হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও ভারতীয় দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘ ২২ বছরের এক যন্ত্রণাদায়ক ইতিহাস। ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ পকেটে পুরতে হলে ভারতীয় দলকে লর্ডসের ২২ বছরের এই ‘জয় খরা’ কাটাতে হবে।
ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে লর্ডস আবেগের নাম। ১৯৮৩ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির স্মরণীয় ফাইনাল—লর্ডস মানেই ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালী উপাখ্যান। কিন্তু সেই আবেগ আর বাস্তবতার মাঝে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে গত দুই দশকে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে ভারত লর্ডসে শেষবার ইংল্যান্ডকে ২৩ রানে পরাজিত করেছিল। এরপর থেকে কেটে গেছে ২২টি বছর, কিন্তু এই ঐতিহাসিক মাঠে ওডিআই ফরম্যাটে ভারতের জয়ের কপালে আর শিকে ছিঁড়েনি।
সাম্প্রতিক অতীত আরও বেশি উদ্বেগজনক। লর্ডসে খেলা শেষ চারটি ওডিআই ম্যাচে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ড ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল। ২০১১ সালে ম্যাচটি টাই হওয়ার পর, ২০১৮ সালে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুড়িয়ে দিয়ে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। এমনকি সর্বশেষ ২০২২ সালের ম্যাচেও ভারতীয় দল ১০০ রানের লজ্জাজনক ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা লর্ডসের মাঠে ভারতীয় দলের জন্য এক অদৃশ্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধিনায়ক শুভমান গিলের সামনে এখন এক কঠিন পরীক্ষা। পরিসংখ্যানের বিচারে লর্ডস বরাবরই ইংল্যান্ডের জন্য দুর্গস্বরূপ। কিন্তু এই ‘দুর্গ’ ভাঙার জন্য গিল ব্রিগেডের সামনে সুযোগ রয়েছে। রবিবারের ম্যাচে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ২২ বছরের এই কলঙ্ক মুছে ফেলার এক সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার সামনে। সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়ী হতে হলে শুভমান গিলের বাহিনীকে ব্যাট এবং বল উভয় বিভাগেই তাদের সেরা ছন্দ খুঁজে নিতে হবে।
লর্ডসের এই ঐতিহাসিক উইকেটে যদি বোলাররা প্রাথমিক ধাক্কা দিতে পারেন এবং মিডল অর্ডার ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে সক্ষম হন, তবেই ২২ বছরের খরা কাটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়া সম্ভব। এখন প্রশ্ন একটাই, রবিবার কী লর্ডস সাক্ষী হতে চলেছে এক নতুন ইতিহাসের? নাকি আরও একটি দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে ভারতীয় সমর্থকদের? সব জল্পনার অবসান হতে চলেছে আগামী ম্যাচেই।