২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের (AY) জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল। আয়কর বিভাগ ইতিমধ্যেই বেতনভোগী কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং ক্ষুদ্র করদাতাদের সুবিধার্থে ই-ফাইলিং পোর্টালে প্রয়োজনীয় এক্সেল ইউটিলিটি এবং অনলাইন ফর্ম উপলব্ধ করেছে। এর ফলে করদাতারা এখন থেকেই তাঁদের আয়ের হিসাব জমা দেওয়া শুরু করতে পারবেন। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন পদ্ধতিতেও এই রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব।
ডেডলাইন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা
যাঁদের আয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজন নেই, তাঁদের জন্য আইটিআর দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ জুলাই, ২০২৬। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, শেষ মুহূর্তের যান্ত্রিক গোলযোগ বা সার্ভারের সমস্যা এড়াতে হাতে যথেষ্ট সময় থাকতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত। আগেভাগে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন এবং রিফান্ড প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে।
কারা ব্যবহার করবেন আইটিআর-১ বা ‘সহজ’ ফর্ম?
আইটিআর-১ হলো সবথেকে সাধারণ এবং বহুল ব্যবহৃত ফর্ম। এটি মূলত সেইসব আবাসিক ভারতীয়দের জন্য যাঁদের বার্ষিক আয় ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এই আয়ের উৎসের মধ্যে থাকতে পারে:
বেতন বা পেনশন।
একটি মাত্র বাড়ির সম্পত্তি থেকে আয়।
সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের টাকা।
৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি আয়।
ধারা ১১২এ-এর অধীনে ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ (LTCG)।
কারা এই ফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন না?
যদি কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস জটিল হয়, যেমন— ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়, একাধিক বাড়ির মালিকানা, লটারি থেকে জয়ী হওয়া বা শেয়ার বাজার থেকে বড় অঙ্কের স্বল্পমেয়াদী মূলধনী লাভ— তবে তিনি আইটিআর-১ ফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁকে নির্দিষ্ট অন্য ফর্ম বেছে নিতে হবে।
প্রথমবার করদাতাদের জন্য বিশেষ টিপস
ট্যাক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আধার কার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র যাচাইকৃত আধার নম্বরই (Verified Aadhaar Number) গ্রহণ করা হবে; কোনো এনরোলমেন্ট আইডি দিয়ে কাজ হবে না। এছাড়া, করদাতাদের তাঁদের সমস্ত সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং ঋণ সংক্রান্ত তথ্য (ব্যাংকের নাম, ঋণের পরিমাণ ও অ্যাকাউন্ট নম্বর) সঠিকভাবে প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভুল এড়াতে AIS এবং 26AS যাচাই করুন
রিটার্ন দাখিল করার আগে প্রতিটি করদাতার উচিত তাঁদের অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (AIS) এবং ফর্ম 26AS ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া। ব্যাংকের সুদ, টিডিএস (TDS) বা লভ্যাংশ সংক্রান্ত তথ্যে সামান্য গরমিল থাকলেও আয়কর বিভাগ থেকে নোটিশ আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই তথ্য যাচাই করে নিখুঁতভাবে রিটার্ন দাখিল করাই বুদ্ধিমানের কাজ।





