আইপিএলের গ্ল্যামার আর কোটি টাকার ঝনঝনানির আড়ালে মাঝে মাঝে এমন কিছু মানবিক গল্প উঠে আসে, যা ক্রিকেটের নন্দনতত্ত্বকে ছাপিয়ে যায়। সোমবার রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) ম্যাচে ঠিক তেমনই এক বিরল ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। মুম্বইয়ের লেগস্পিনার রঘু শর্মা যখন লখনউয়ের অক্ষত রঘুবংশীর উইকেটটি নিলেন, তখন তাঁর সেলিব্রেশন দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলেন ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে দর্শকরাও।
মুম্বইয়ের জার্সিতে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন রঘু। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে একটি ফ্লাইটেড বল দিয়ে তিনি ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করেন এবং নিজেই একটি নিখুঁত ফিরতি ক্যাচ ধরেন। উইকেট পাওয়ার সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে না পড়ে রঘু পকেট থেকে একটি ভাঁজ করা ছোট চিরকুট বের করে ক্যামেরার সামনে ধরেন। সেই চিরকুটে লেখা ছিল— “অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ১৫টি বছর। গুরুদেবের কৃপায় আজ তার অবসান হলো। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে এই সুযোগের জন্য ধন্যবাদ, আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
এই দুটি লাইনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটে রঘুর দেড় দশকের দীর্ঘ ও নিঃশব্দ লড়াইয়ের ইতিহাস। আজকের দিনে যেখানে টিনএজ বয়সেই ক্রিকেটাররা আইপিএলের মঞ্চে কোটিপতি হয়ে যান, সেখানে রঘুকে এই আলোর বৃত্তে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ১৫ বছর। দিনের পর দিন ব্রাত্য থেকেছেন, অবহেলা সয়েছেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি। সোমবারের সেই উইকেটটি ছিল তাঁর সেই সীমাহীন ধৈর্য এবং অদম্য জেদের এক সার্থক প্রতিফলন।
ম্যাচে রঘু অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং উপহার দেন। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিলেও, পরিসংখ্যান তাঁর প্রভাবকে বোঝাতে পারবে না। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে যখন ঋষভ পন্থ ও এইডেন মার্করামের মতো বিধ্বংসী ব্যাটাররা হাত খোলার চেষ্টা করছিলেন, তখন রঘু বিচক্ষণতার সাথে নিজের গতি ও লেংথ পরিবর্তন করে তাঁদের বেঁধে রাখেন। রঘুর এই লড়াই প্রমাণ করে দিল যে, অধ্যবসায় থাকলে সাফল্যের সূর্যোদয় দেরিতে হলেও নিশ্চিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সেই চিরকুটের ভিডিও এখন ভাইরাল, যেখানে ক্রিকেট ভক্তরা বলছেন— “ক্রিকেট কেবল খেলা নয়, ক্রিকেট এক অমর সংগ্রামের নাম।”





