যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের গ্রিনউড থেকে এমন এক ঘটনার খবর সামনে এসেছে, যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। যে বয়সে হাতে পুতুল বা গল্পের বই থাকার কথা, সেই ১২ বছর বয়সেই মা হতে চলেছে এক কিশোরী। কিন্তু ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ নয়; এই ঘটনাটিকে ঘিরে শোক বা অনুশোচনা প্রকাশ করার বদলে কিশোরীর বাবা-মা আয়োজন করেছেন এক রাজকীয় ‘বেবি শাওয়ার’ বা সাধভক্ষণ অনুষ্ঠানের। ইন্টারনেটে সেই উদযাপনের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই ধিক্কারের ঝড় উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী তার ‘বেবি বাম্প’ প্রদর্শন করছে। পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গী, যার বয়স মাত্র ১৩ বছর। চারপাশ সাজানো হয়েছে দামি বেলুন, ঝকঝকে সাজসজ্জা আর উপহারে। দেখে মনে হতে পারে, কোনো পরিণত দম্পতির আনন্দঘন মুহূর্ত। কিন্তু পাত্র-পাত্রীর বয়স জানতেই নেটিজেনদের ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে। @shelia.marble.1 নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ছবিগুলি প্রথম জনসমক্ষে আসে, যা পরবর্তীতে এক্স (টুইটার) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তীব্র আক্রমণ করে বলছেন, এটি স্রেফ একটি গর্ভধারণ নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমা। অনেক নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন, ১২ বছরের একটি শিশু কীভাবে এত বড় শারীরিক ও মানসিক ভার বহন করবে? বাবা-মায়ের দায়িত্ব কি সন্তানদের রক্ষা করা নয়? যেখানে অভিভাবকরা এই অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তারা কোন লজ্জায় একে উৎসব হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এত অল্প বয়সে গর্ভবতী হওয়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিশোরী শরীরের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে, এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখনও পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপের খবর মেলেনি ঠিকই, তবে আমেরিকার কিশোরী গর্ভধারণ (Teenage Pregnancy) এবং সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। কিছু লাইক বা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কি শৈশবকে এভাবে বলি দেওয়া যায়? উত্তর খুঁজছে সমাজ।





