বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত রিটার্নের কথা ভাবলেই সবার আগে মাথায় আসে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য কৌশলে এই পিপিএফ আপনাকে অবসরের পর কোটিপতি করে তুলতে পারে? সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে ৬০ বছর বয়সের পর আপনার হাতে থাকবে দেড় কোটির বেশি টাকা, এবং আপনি প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে তুললেও আপনার আসল তহবিলে টান পড়বে না।
পিপিএফ হলো ভারত সরকার সমর্থিত একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি ‘EEE’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ এতে বিনিয়োগ করা টাকা, অর্জিত সুদ এবং ম্যাচিউরিটির পর পাওয়া পুরো অর্থই আয়কর মুক্ত। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারী বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পিপিএফ-এ জমা করতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ১৫ বছর হলেও, ৫ বছর করে একাধিকবার এই মেয়াদ বাড়িয়ে বিনিয়োগ জারি রাখা সম্ভব।
কিভাবে কাজ করবে এই ‘কোটিপতি’ ফর্মুলা?
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সে পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুললেন। তিনি যদি বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা (মাসে ১২,৫০০ টাকা) বিনিয়োগ করেন এবং ১৫ বছর পর আরও তিনবার ৫ বছর করে মেয়াদ বৃদ্ধি করেন, তবে মোট ৩০ বছর তিনি বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে পিপিএফ-এর বার্ষিক সুদের হার ৭.১০%। এই হারে বিনিয়োগ করলে ৩০ বছর পর ওই ব্যক্তির হাতে জমা হবে প্রায় ১,৫৪,৫০,৯১১ টাকা। অর্থাৎ অবসরের সময় আপনি অনায়াসেই দেড় কোটির মালিক হচ্ছেন।
মাসে ১ লক্ষ টাকা আয়ের কৌশল (SWP):
৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পর নিয়মিত আয়ের জন্য এই ম্যাচিউরিটির টাকা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল অঙ্কের টাকা যদি কোনো সিস্টেমেটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান (SWP)-এ বিনিয়োগ করা হয় যা বছরে গড়ে ৭% রিটার্ন দেয়, তবে জাদুর মতো কাজ করবে।
যদি আপনার ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত আগামী ২০ বছরের জন্য নিয়মিত টাকার প্রয়োজন হয়, তবে এই ১.৫৪ কোটি টাকা SWP-তে রাখলে আপনি প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে হাতে পাবেন। সবথেকে বড় চমক হলো, টানা ২০ বছর ধরে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে তোলার পরেও আপনার অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট থাকবে প্রায় ১,০০,০৫,৬৫৫ টাকা। অর্থাৎ আপনি প্রতি মাসে আয়ও করছেন এবং আপনার মূলধনের একটি বড় অংশও সুরক্ষিত থাকছে। সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ ও নিশ্চিত আয়ের জন্য এই সরকারি প্রকল্পের সঠিক ব্যবহারই হতে পারে আপনার সেরা সিদ্ধান্ত।





