আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ শুরুর আগেই ভারতীয় শিবিরে বড়সড় ধাক্কা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে অনবদ্য ব্যাটিং করেছিলেন কোহলি। ম্যাচ সেরার খেতাবও জিতেছিলেন তিনি। তবে সেই ফাইনালেই দৌড়ানোর সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। দলের প্রয়োজনে অস্বস্তি নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও, সেই চোটই এখন বড় বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিসিআই-এর মেডিকেল টিমের পরামর্শ মেনেই তাঁকে এই সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে বোর্ড সূত্রে খবর, হ্যামস্ট্রিংয়ের এই সমস্যা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জুন ধর্মশালায় ভারত বনাম আফগানিস্তানের ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর লখনউ ও চেন্নাইয়ে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ হবে। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির নিরিখে এই সিরিজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে কোহলির অনুপস্থিতি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে বড় শূন্যতা তৈরি করবে।
বিরাটের পরিবর্তে কাকে দলে নেওয়া হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ক্রিকেট মহলের একাংশের দাবি, আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রজত পতিদারকে দলে নেওয়া হতে পারে। বিরাটের ৩ নম্বর ব্যাটিং পজিশন সামলানোর মতো দক্ষতা এবং ধৈর্য তাঁর আছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে আবার রোহিত শর্মার ফিটনেস নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা দলের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই সিরিজে শুভমন গিলের কাঁধে দলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, টেস্ট এবং আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকে অবসর নেওয়ার পর কোহলি এখন শুধুমাত্র ওডিআই ফরম্যাটেই দেশের হয়ে খেলছেন। গত জানুয়ারিতে ইন্দোরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষবার তাঁকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেখা গিয়েছিল। তারপর দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। আইপিএলে দুরন্ত ছন্দে থাকা বিরাটের এই চোট দীর্ঘমেয়াদী কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে উঠতে কতটা সময় লাগবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পরবর্তী প্রত্যাবর্তন। फिलहाल, কোটি কোটি ভক্ত এখন শুধুমাত্র তাঁর দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনায় শামিল হয়েছেন।





