প্রচারের শেষ লগ্নে এসে বাংলার মাটি থেকে বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি জানিয়ে দিলেন, এবার আর ভোট চাইতে নয়, আগামী ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই ফের বাংলায় পা রাখবেন তিনি। হেলিপ্যাড থেকে সভাস্থল পর্যন্ত মানুষের অভূতপূর্ব ভিড় দেখে অভিভূত প্রধানমন্ত্রী এদিন আবেগের সঙ্গে রাজনৈতিক বারুদ মেশালেন।
‘জনতার প্রেমেই শক্তি’: নিজের ভাষণে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া দিয়ে মোদী বলেন, “মা কালীর ভক্তদের মাঝে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা ভোলার নয়। রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে যে কঠোর সংযম পালন করেছিলাম, তার নেপথ্যে ছিল বাংলার প্রতি আমার গভীর টান।” তাঁর দাবি, বাংলাই তাঁর আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু এবং এখানকার মানুষই তাঁর কাছে ঈশ্বরের রূপ।
ক্লান্তি নয়, তীর্থযাত্রার অনুভূতি: প্রচণ্ড গরমের মধ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণ— চষে ফেলেছেন মোদী। তবুও মুখে ক্লান্তির রেশ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “৩০-৪০ বছর আগেও এই দৌড়ঝাঁপে ক্লান্তি লাগত। কিন্তু এবারের অনুভূতি আলাদা। রোড শো শেষে মানুষের ভিড়ে হেঁটে যাওয়ার মুহূর্তগুলো আমার কাছে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একপ্রকার তীর্থযাত্রা।”
পরিবর্তনের ডাক ব্যারাকপুর থেকে: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ১৮৫৭ সালে স্বাধীনতার প্রথম বিদ্রোহ ব্যারাকপুরের মাটি থেকেই শক্তি পেয়েছিল। তাঁর দাবি, আজ সেই মাটিই ফের পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছে। রাজ্যবাসীকে নিজের ‘পরিবার’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, “বিজেপির দেওয়া প্রতিটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদের মাঝেই শান্তি খুঁজে পাই।”
বিজেপির এই আত্মবিশ্বাস কি ৪ মে-র পর সত্যিই বাংলার ভাগ্যবদল করবে? এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজনৈতিক মহল।





