পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন। এই ভোটগ্রহণকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে মোট ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য—ভোটারদের ভয়মুক্ত রাখা এবং কোনওভাবেই যাতে বুথ দখল বা অশান্তির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করা।
কোথায় কত শক্তি কমিশনের?
কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক বাহিনীর সিংহভাগই থাকবে বুথ পাহারায়। শহর কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে এবার সবথেকে বেশি সতর্ক নির্বাচন সদন। লালবাজারের আওতাধীন এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে রেকর্ড ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর বাইরে পূর্ব বর্ধমানে ২৬০ কোম্পানি এবং হুগলি গ্রামীণে ২৩৪ কোম্পানি বাহিনী থাকছে। জেলাভিত্তিক এই বিন্যাসই বলে দিচ্ছে যে, কমিশন এবার তিলমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ।
জেলাজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিন্যাস:
বারুইপুর ও বারাকপুর: এখানে যথাক্রমে ১৬১ এবং ১৬০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট: নদীয়া জেলার এই দুই পুলিশ জেলায় যথাক্রমে ১৫৮ ও ১২৭ কোম্পানি বাহিনী কাজ করবে।
সুন্দরবন ও ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে যথাক্রমে ১১৩ ও ১৩৫ কোম্পানি জওয়ান মোতায়েন থাকছেন।
শিল্পাঞ্চল: চন্দননগর ও আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলেও কড়া নজরদারি থাকছে।
পর্যবেক্ষকদের কড়া নজর:
শুধুমাত্র বাহিনী নয়, ভোট পরিচালনার জন্য মাঠে নামছেন একঝাঁক বিশেষজ্ঞ। নজরদারির জন্য থাকছেন ১৪২ জন জেনারেল অবজারভার, ৯৫ জন পুলিশ অবজারভার এবং ১০০ জন ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। ভোট শুরুর আগে কালীনগর থেকে চন্দননগর—সর্বত্রই যেন এক অদৃশ্য নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ দফার এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অতি-সক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তি বজায় রাখতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





