আম আদমি পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থেকে এখন পদ্ম শিবিরের সাংসদ—রাঘব চাড্ডার রাজনৈতিক জীবনে গত কয়েকদিনে ঘটে গিয়েছে এক বিশাল রদবদল। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান আপ-এর ৭ জন সাংসদের বিজেপিতে সংযুক্তিকরণের প্রস্তাবে শিলমোহর দেওয়ার পর রাঘব এখন সরকারিভাবে বিজেপির সদস্য। দলবদলের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রথম ভিডিও বার্তায় রাঘব জানিয়েছেন, কেন তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গ ছাড়তে বাধ্য হলেন এবং তাঁর সামনে আর কী কী বিকল্প ছিল।
রক্ত-ঘাম দিয়ে গড়া দল আজ ‘বিষাক্ত’:
ভিডিওতে রাঘব আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমি রাজনীতিবিদ হওয়ার আগে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলাম। কেরিয়ার গড়তে নয়, বরং কেরিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম। আপ-এর জন্মলগ্ন থেকে নিজের যৌবনের ১৫টা বছর এই দলকে দিয়েছি। কিন্তু আজকের এই দলটা আর সেই পুরনো দল নেই। দলের কাজের পরিবেশ এখন অত্যন্ত বিষাক্ত (Toxic) হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল, এমনকি সংসদে পর্যন্ত কথা বলতে দেওয়া হচ্ছিল না।”
৩টি বিকল্প ও বিজেপির পথ:
রাঘব জানিয়েছেন, আপ-এর অন্দরে কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপোশকারী লোকের দাপট বেড়ে যাওয়ায় তাঁর সামনে তিনটি পথ খোলা ছিল। প্রথমত, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, দলেই থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়া—যা কার্যত অসম্ভব ছিল। এবং তৃতীয়ত, অন্য কোনও মঞ্চ থেকে ইতিবাচক রাজনীতি করা। রাঘবের কথায়, “সম্ভবত আমি ঠিক লোক হয়ে ভুল দলে ছিলাম। আমার সঙ্গে আরও ৬ জন সাংসদ দল ছেড়েছেন। আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে ভুল হতে পারি, কিন্তু ৭ জন সাংসদ একসঙ্গে ভুল হতে পারেন না।”
সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার:
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বিজেপিতে যাওয়ার পর রাঘব কি আগের মতো সাধারণ মানুষের হয়ে সরব হবেন? এর উত্তরে তিনি সাফ জানান, এখন তিনি আরও দ্বিগুণ শক্তিতে মানুষের সমস্যার কথা বলবেন। যতক্ষণ না সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি থামবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঘবের এই দলবদল এবং বিস্ফোরক বয়ান আপ-এর অন্দরের ফাটলকেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় করে সামনে নিয়ে এল।





