পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে বড় পরিবর্তনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাস হলে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ২৯৪ থেকে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪৪১-এ। অর্থাৎ, বর্তমান কাঠামোর তুলনায় আসন সংখ্যা বাড়ছে ঠিক ৫০ শতাংশ!
কেন এই আমূল পরিবর্তন? কেন্দ্রীয় সরকার আজ সংসদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছে। যার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী এবং ডিলিমিটেশন কমিশন আইন। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে:
জনসংখ্যার চাপ: সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজেজু জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালে যখন শেষবার আসন বিন্যাস হয়েছিল তখন জনসংখ্যা ছিল ৬০ কোটি। আজ তা ১৪০ কোটি ছাড়িয়েছে। ফলে একজন সাংসদকে এখন প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হচ্ছে, যা কার্যত অসম্ভব।
মহিলা সংরক্ষণ: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে চায় মোদী সরকার। আর এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
ভবিষ্যতের রোডম্যাপ: সরকারি হিসেব অনুযায়ী, লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা হতে পারে। সেই অনুপাতে বাড়লে বাংলার বিধানসভা আসন ১৪৭টি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪১ হবে।
২০২৬ বনাম ২০৩১-এর অঙ্ক: বর্তমানে রাজ্যে যে নির্বাচনী দামামা বেজেছে, সেই ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে বর্তমানের ২৯৪ আসনেই। তবে ২০৩১ সালের বিধানসভা ভোট হবে সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোয়। অর্থাৎ, আগামী ৫ বছরে বাংলার বিধানসভার মানচিত্র আমূল বদলে যেতে চলেছে।
প্রতিবাদে উত্তাল দক্ষিণ ভারত: কেন্দ্রের এই ‘আসন বৃদ্ধি’ তত্ত্বকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে দক্ষিণ ভারতে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এবং কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ:
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার জন্য দক্ষিণ ভারতকে কি ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে?
আসন বাড়লে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব ২৪.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০.৭ শতাংশে নেমে আসবে।
উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ওপর আঘাত।
উপসংহার: এই বিল পাস হলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের খোলনলচে বদলে যাবে। লোকসভা থেকে বিধানসভা— সর্বত্রই নতুন নির্বাচনী কেন্দ্রের জন্ম হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আসন বাড়লে কি সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে নাকি এটি কেবলই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের কৌশল?





