বর্তমান যুগে যেখানে সামান্য বেশি বেতন বা প্রোমোশনের জন্য তরুণ প্রজন্ম এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে পাড়ি জমায়, সেখানে শিফানাজ শরীফ এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বছরে ১০.২৫ লক্ষ টাকার লোভনীয় কর্পোরেট ক্যারিয়ার ত্যাগ করে তিনি মাত্র ৪.৭৫ লক্ষ টাকার একটি প্যাকেজ বেছে নিয়েছেন। প্রথম নজরে এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত মনে হলেও, এর পেছনের আবেগ ও রণকৌশল এখন ইন্টারনেটে লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে নিজের জীবনের মোড় ঘোরানো এই গল্পটি শেয়ার করে শিফানাজ জানিয়েছেন, এই বেতন হ্রাস তাঁর ক্যারিয়ারের অবনতি নয়। বরং এটি একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ। তাঁর মতে, “কখনো বড় কোনো লাফ দেওয়ার আগে এক ধাপ পিছিয়ে আসতে হয়, আমার এই সিদ্ধান্তটিও ঠিক তেমন।” ভিডিওতে কথা বলার সময় তাঁকে কিছুটা আবেগপ্রবণ দেখালেও তাঁর দুচোখে ছিল আত্মবিশ্বাস।
কলেজ শেষ করার পর থেকেই শিফানাজ মার্কেটিং জগতে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর এবং ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করে তিনি ব্যবসার গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন। কিন্তু কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? শিফানাজ জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আসবাবপত্রের (Furniture) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সেই কষ্টার্জিত ব্যবসাকে আধুনিক রূপ দিতে এবং নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতেই তিনি তাঁর এই কর্পোরেট অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাধারণত পারিবারিক ব্যবসায় পুরনো ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিন্তাধারার পার্থক্য থাকলেও, শিফানাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তাঁর বাবা তাঁর আধুনিক পরিকল্পনাগুলো শোনেন এবং তা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। বাবার ব্যবসায় সাহায্য করার পাশাপাশি শিফানাজ বাজারের নতুন সম্ভাবনাগুলোও যাচাই করছেন, যাতে ভবিষ্যতে নিজের একটি স্টার্টআপ চালু করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। কেউ লিখেছেন, “বাবার প্রতি এমন শ্রদ্ধা ও ব্যবসার প্রতি এই দূরদর্শিতা বিরল।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “প্রকৃত শিক্ষাই হলো এটি, যা পরিবারের শিকড়কে মজবুত করে।” শিফানাজের এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিল যে, সফলতার মাপকাঠি শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং নিজের স্বপ্ন ও ঐতিহ্যের প্রতি নিষ্ঠা।





