বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে ৩০ হাজার দলীয় কর্মীকে নিয়ে এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী থেকে শুরু করে বুথ স্তরের এজেন্ট—সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে আগামী ১৫ দিনের জন্য ‘পাখির চোখ’ ঠিক করে দিলেন তিনি। অভিষেকের সাফ বার্তা, দলের ভেতর কোনো ‘ইগো’ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না।
ইগো সরান, একজোট হোন: কড়া হুঁশিয়ারি
বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন যে, দলের সব নেতার কাজ নজরে রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়:
পুরস্কার ও শাস্তি: “যাঁরা মাঠে নেমে ভালো কাজ করছেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে। আর যাঁরা শুধু দেখানোর জন্য কাজ করছেন, তাঁদেরও রেকর্ড রাখা হচ্ছে।”
ঐক্যই শক্তি: গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে প্রতিটি বুথে কর্মীদের একত্রিত হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভোটার তালিকা ও এনআরসি বিতর্ক
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একহাত নেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন:
রেকর্ড জয়: “বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, ১ কোটি নাম বাদ গেলেও তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরবে। ২০২১-এর ভোটের রেকর্ড এবার ভেঙে যাবে।”
বাঙালি হিন্দু টার্গেট: অসমের এনআরসি-র উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, প্রথম পর্যায়ে যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গেছে, তার বড় অংশই বাঙালি হিন্দু। বিজেপির এই ‘চাল’ ভোটারদের বোঝানোর দায়িত্ব দিয়েছেন কর্মীদের।
আইপ্যাক ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি
I-PAC-এর ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলের ইডি গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে ভয় দেখাতে চাইছে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ দল বা কর্মীদের মনোবল ভাঙতে পারবে না, বরং তৃণমূল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।
কংগ্রেস ও বিজেপি-কে নিয়ে আক্রমণ
মালদা ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের ভোটারদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ:
কংগ্রেস মানেই বিজেপি: “কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে বিজেপিকে জেতানো। জেতার পর কংগ্রেসের লোকেরাই টাকা খেয়ে বিজেপিতে যোগ দেবে।”
মিডিয়া ওয়েভ: বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি শুধু কোটি কোটি টাকা খরচ করে মিডিয়াতে জয়ের হাওয়া তৈরি করছে, কিন্তু মাটিতে তাদের কোনো জনভিত্তি নেই।
নির্বাচনের ঠিক ১৫ দিন আগে অভিষেকের এই ‘একতা’র বার্তা তৃণমূলের অন্দরের ফাটল কতটা মেরামত করতে পারে, ৩রা মে ইভিএম খুললেই তার প্রমাণ মিলবে।





