দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাল সৌদি! ২৮ হাজার কোটির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ জিন্না-র দেশে, ভারতের পড়শির বড় চাল?

চরম আর্থিক সংকটে খাবি খাওয়া পাকিস্তানের জন্য মহাকাশ থেকে যেন এল আশীর্বাদ। বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সাহায্য পেতে চলেছে ইসলামাবাদ, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ সাহায্য সরাসরি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার (Forex Reserve) ভাঁড়ারে জমা হবে।

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই অর্থ পাকিস্তানে এসে পৌঁছবে। শুধু ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন সাহায্যই নয়, এর আগে গচ্ছিত রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদও বাড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের তলানিতে ঠেকে যাওয়া বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার যাতে পুরোপুরি শূন্য না হয়ে যায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) কাছ থেকে নেওয়া ঋণ যাতে পাকিস্তান সময়মতো শোধ করতে পারে, তার জন্যই সৌদি আরব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের হাতে মাত্র ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা রয়েছে, যা দিয়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের পণ্য আমদানি করা সম্ভব। এই সংকটের মুহূর্তে সৌদির এই ‘মেগা প্যাকেজ’ পাকিস্তানকে নিশ্চিত দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সাহায্যের নেপথ্যে কেবল বন্ধুত্ব নয়, রয়েছে গভীর সামরিক সমীকরণও। গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছে এক দেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য দেশ নিজের ওপর হামলা বলে গণ্য করবে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের এই আর্থিক স্থিতিশীলতা আসলে সৌদির আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কৌশলেরই অংশ।

ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি বৈঠকের ঠিক পরপরই সৌদি অর্থমন্ত্রী মহম্মদ আল-জাদান পাকিস্তানে সফর করেন। এই সফরের পরক্ষণেই এই বিশাল অঙ্কের সাহায্যের ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন পাকিস্তান ঋণের ভারে জর্জরিত, তখন সৌদির এই হাত বাড়িয়ে দেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy