“০% ভোটদান!”-একটি ভোটও পড়ল না এই বুথে, কেন এমন জেদ গ্রামবাসীদের?

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মেগা লড়াই শেষ। আগামী ৪ মে ভাগ্য নির্ধারণ হবে হেভিওয়েট প্রার্থীদের। কিন্তু এর মাঝেই প্রকাশ্যে এল এক অভাবনীয় সংবাদ। যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো এক একটি ভোটের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই চালায়, সেখানে পুরুলিয়ার একটি গোটা বুথ রয়ে গেল জনশূন্য। জয়পুর বিধানসভার ১৬৩ নম্বর হরতান বুথে ভোটদানের হার রেকর্ড বইয়ে ‘০’ শতাংশ হয়ে থেকে গেল।

প্রতিবাদের নাম ‘শূন্য’:
গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট ছিল পুরুলিয়ায়। অভিযোগ, জয়পুর বিধানসভার হরতান গ্রামের মানুষ এককাট্টা হয়ে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। ওই বুথের তালিকাভুক্ত ভোটারদের কেউই এদিন বুথমুখী হননি। কিন্তু কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

মূল সমস্যা যখন রাস্তা:
এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক তথা ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতো জানান, রিজিড হাইস্কুল মোড় থেকে হরতান পর্যন্ত যে রাস্তাটি রয়েছে, তা দীর্ঘ দিন ধরে ভগ্নদশা। বর্তমানে সেই রাস্তা খাল-বিলের আকার নিয়েছে, যা চলাচলের একেবারে অযোগ্য। এলাকাবাসী বারবার দাবি জানালেও সরকার বা পঞ্চায়েত কোনো পদক্ষেপ করেনি। ফলত, এই বঞ্চনার প্রতিবাদেই গ্রামের ১০০ শতাংশ মানুষ ভোট বয়কটের পথে হেঁটেছেন। এমনকি রাস্তা না হলে আগামী পঞ্চায়েত ভোটও বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তাঁরা।

তৃণমূলের সাফাই ও বন বিভাগের জটিলতা:
তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতো এই ঘটনার সত্যতা মেনে নিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, ভোটদানের হার একেবারে শূন্য নয়, পোস্টাল ব্যালটে দু-একটি ভোট পড়েছে। তিনি জানান, “রাস্তাটি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু জমি বন বিভাগের অধীনে থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা বন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলছি, রাস্তা হবেই। কিন্তু গ্রামবাসীরা ভোটের আগেই কাজ চেয়েছিলেন, যা সম্ভব হয়নি।”

নির্বাচন কমিশন যখন রেকর্ড ভোটদানের জন্য গর্ব করছে, তখন পুরুলিয়ার এই বুথটি গণতন্ত্রের আয়নায় এক অন্য ছবি ফুটিয়ে তুলল। উন্নয়নের দাবিতে ব্যালট বাক্স শূন্য রেখে গ্রামবাসীরা যে কড়া বার্তা দিলেন, তার প্রভাব ফলপ্রকাশের পর কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy