একটা সময় ছিল যখন ভারতীয়দের কাছে বাইক মানেই ছিল ১০০ বা ১১০ সিসির সাদামাটা যাতায়াতের মাধ্যম। সেই ধারণা বদলে দিয়েছিল বাজাজ পালসার। সাধারণ বাইক রাইডিংকে এক লহমায় প্যাশন আর থ্রিল-এ রূপান্তর করেছিল এই ব্র্যান্ড। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিতে বড়সড় চমক দিল বাজাজ অটো। ভারতের জনপ্রিয় স্পোর্টি নেকেড বাইক Bajaj Pulsar NS400Z এখন হয়ে গেল আরও সস্তা এবং সাশ্রয়ী।
কেন হঠাৎ কমল দাম? বাজাজের এই জনপ্রিয় স্ট্রিটফাইটার বাইকের দাম কমার নেপথ্যে রয়েছে এক দুর্দান্ত গাণিতিক কৌশল। আগে এই বাইকে ছিল ৩৭৩.২ সিসির ইঞ্জিন। নতুন আপডেটেড মডেলে সেই ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি সামান্য কমিয়ে ৩৪৯ সিসি (349cc) করা হয়েছে। ইঞ্জিনের সিসি কমায় বাইকটি এখন ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST) স্ল্যাবের আওতায় চলে এসেছে। কর কাঠামোয় এই বড়সড় পরিবর্তনের সুবিধা সরাসরি পাচ্ছেন ক্রেতারা। যার ফলে এক্স-শোরুম দাম, রেজিস্ট্রেশন এবং বিমা মিলিয়ে অন-রোড দাম প্রায় ২৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
পারফরম্যান্সে কি ঘাটতি হবে? বাইকপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ইঞ্জিন ছোট হওয়ায় কি পালসারের সেই চিরাচরিত ‘পাওয়ার’ কমে যাবে? সংস্থা দাবি করছে— একেবারেই নয়। নতুন লিকুইড-কুলড ইঞ্জিনটি এখনও ৪০.৬ PS শক্তি জেনারেট করতে সক্ষম। ইঞ্জিনের ক্ষমতা কিছুটা অ্যাডজাস্ট করা হলেও বাইকের ‘পাওয়ার-টু-ওয়েট’ রেশিও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বাইকের অ্যাগ্রেসিভ পারফরম্যান্স বা গতিতে কোনো হেরফের হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফিচারে ঠাসা নতুন মডেল: দাম কমলেও প্রযুক্তিতে কোনো কাটছাঁট করেনি বাজাজ। নতুন মডেলে আপনি পাবেন:
রাইডিং মোড: চারটি আলাদা রাইডিং মোড।
সেফটি: ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস (ABS) এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল।
টেকনোলজি: কুইক শিফটার এবং ব্লুটুথ কানেক্টিভিটিসহ ডিজিটাল কনসোল।
ডিজাইন: ১৬৫ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং স্পোর্টি স্ট্রিটফাইটার লুক।
দিল্লিতে এক্স-শোরুম দাম: নতুন বাজাজ পালসার NS400Z-এর দিল্লির এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৯২ টাকা থেকে।
বর্তমানে মধ্যবিত্ত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ৩৫০ সিসির ওপরের বাইকের চাহিদা তুঙ্গে। সেই বাজার ধরতেই কেটিএম (KTM) বা ট্রায়াম্ফ (Triumph)-এর মতো ব্র্যান্ডের পথে হেঁটে ইঞ্জিন ‘ডাউনসাইজিং’-এর কৌশল নিল বাজাজ। পারফরম্যান্স বজায় রেখে দাম কমানোর এই মাস্টারস্ট্রোক যে বাইক বাজারে ঝড় তুলবে, তা নিয়ে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।





