২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল তিলোত্তমা। ইভিএম রাখা স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর টানটান উত্তেজনার পর এবার বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। কলকাতার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট গণনা কেন্দ্রের আশপাশে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা)।
কোথায় কোথায় জারি কড়াকড়ি? নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ প্রশাসন কলকাতার যে সাতটি এলাকায় জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে, সেগুলি হলো:
শহিদ ক্ষুদিরাম বসু রোড
জাজেস কোর্ট রোড
যাদবপুর
ডায়মন্ড হারবার রোড
লর্ড সিনহা হল
নরেশ মিত্র সরণি (বেলতলা রোড)
প্রমথেশ বড়ুয়া সরণি
কেন এই কড়া ব্যবস্থা? সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার একাধিক স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, রাতের অন্ধকারে স্ট্রংরুমে ‘সন্দেহজনক’ গতিবিধি দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই অভিযোগকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে।
কমিশনের স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নির্বাচন কমিশন অবশ্য কারচুপির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, স্ট্রংরুমে কোনো অনিয়ম হয়নি। পোস্টাল ব্যালট পৃথক করার কাজ চলছিল, যা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। কোনো ধরণের জমায়েত, বিক্ষোভ বা মিছিল করলে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
আগামী ৪ মে ভোট গণনা। তার আগে ইভিএম-এর নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ। সব মিলিয়ে ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত তিলোত্তমার এই সাতটি অঞ্চল কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে।





