সংসদে কি অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল? বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি বৃদ্ধিতে কাঁপছে ঘাসফুল শিবির

বাংলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এখন চরমে। প্রতিদিন যেভাবে দলের ভেতরে বিদ্রোহের সুর তীব্র হচ্ছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সংসদীয় অস্তিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে গঠিত বিদ্রোহী শিবিরে ইতিমধ্যেই ১৯ জন সাংসদ তাঁদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমা দিয়েছেন বলে খবর। আর একজন সাংসদ যোগ দিলেই এই সংখ্যা ২০-তে পৌঁছাবে, যা দলের অন্দরে সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহে নতুন মোড় এই অস্থিরতার মধ্যেই লোকসভার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি বিদ্রোহ দলটির ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নিতে হবে—দলে কে থাকবে, আমি না অভিষেক?” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “ওর (অভিষেক) জন্যই দলটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

কারা রয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে? সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহী শিবিরের সই সম্বলিত তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো—কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মণ বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ, মালা রায়, কালীপদ সোরেন, দীপক অধিকারী (দেব) এবং পার্থ ভৌমিক।

মমতা শিবিরের বর্তমান হাল অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরে এখনও পর্যন্ত ৯ জন সাংসদ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এঁদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি বর্তমানে বিদ্রোহী), কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার অনেকেই দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন।

আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তা দলের অন্দরে ‘আসল তৃণমূল’ কারা, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। যদি মমতা শিবিরের বাকি সাংসদরাও বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান, তবে সংসদে আক্ষরিক অর্থেই দলের নিয়ন্ত্রণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন গোটা রাজ্যের নজর সেই দিকেই।

দুর্গাপূজার আগের এই রাজনৈতিক ডামাডোলে বাংলার শাসকদলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েই এখন জল্পনার তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy