সংকটের মুখে কেন বাড়ল ক্যান্সারের ওষুধের দাম? রোগীদের জন্য জরুরি বার্তা সরকারের

ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ওষুধের তীব্র ঘাটতি মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) সিসপ্ল্যাটিন ও কার্বোপ্ল্যাটিন নামক দুটি প্ল্যাটিনাম-ভিত্তিক ক্যান্সাররোধী ওষুধের সর্বোচ্চ মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে। মূলত বাজারে এই ওষুধগুলোর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটিয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

গত কয়েক মাস ধরে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সিসপ্ল্যাটিন ও কার্বোপ্ল্যাটিনের মতো জীবনদায়ী ওষুধের আকাল দেখা দিয়েছিল। ফুসফুস, ডিম্বাশয় এবং মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি চিকিৎসায় এই ওষুধগুলো অপরিহার্য। হাসপাতালের করিডোরে রোগীদের দীর্ঘ লাইনের মধ্যেও ওষুধ না পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এনপিপিএ-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিসপ্ল্যাটিনের দাম প্রতি মিলি ৭.২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.৮৯ টাকা এবং কার্বোপ্ল্যাটিনের দাম প্রতি মিলি ৬০.৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০.৭৪ টাকা (কর ছাড়া) করা হয়েছে।

কিন্তু কেন এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ওষুধ তৈরির মূল কাঁচামাল প্ল্যাটিনাম। ভারত প্ল্যাটিনামের জন্য মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটিনামের দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ায় ওষুধের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আগের নিয়ন্ত্রিত মূল্যে ওষুধ তৈরি করা কোম্পানিগুলোর কাছে অলাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার ফলে বাজারে ওষুধের জোগান কমে গিয়েছিল।

নতুন এই মূল্য সংশোধন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে আবারও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। শিল্পের দাবি, কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলে উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। সরকারের জনস্বার্থমুখী এই সিদ্ধান্তের ফলে ওষুধের কালোবাজারি এবং কৃত্রিম ঘাটতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ রোগীদের স্বার্থে এনপিপিএ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। আগামী ছয় মাস পর সরকার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আবারও এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করবে। ওষুধের প্রাপ্যতা এবং রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এই নতুন দাম কতটা প্রভাব ফেলছে, তার ওপর কড়া নজরদারি চালাবে এনপিপিএ। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ ক্যান্সার রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।