‘বিশ্ব বাংলা’র আড়ালে ৬৩৫ কোটির দুর্নীতি? প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বাংলার শিল্প ও বাণিজ্য নিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সরাসরি নিশানা করলেন প্রাক্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’-কে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সম্মেলনের আড়ালে রাজকোষের প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে বেআইনিভাবে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি আইনি পদক্ষেপ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘তৃণমূল জমানার ১৫ বছর ছিল শিল্পের নামে ভাঁওতার ইতিহাস। বিভিন্ন সংস্থাকে টাকা দিয়ে বাণিজ্য সম্মেলনের নামে শুধু লোক দেখানো আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বাংলায় কোনো শিল্প আসেনি, কর্মসংস্থানও তৈরি হয়নি।’’ তাঁর অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের টাকার একটা বড় অংশ কমিশন ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে নয়ছয় হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্তকারী সংস্থাদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।

বাণিজ্য সম্মেলনের খরচের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্য যেখানে অনেক কম খরচে একই ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করে, সেখানে বাংলায় কোটি কোটি টাকা কীভাবে একটি বিশেষ সংস্থাকে দেওয়া হলো, তা বড় প্রশ্ন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘‘এত টাকা খরচ করে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ কী এলো? কতগুলো শিল্প ইউনিট বাস্তাবায়িত হলো? সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান কোথায়?’’

প্রসঙ্গত, ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট ছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। কিন্তু শুভেন্দুর দাবি, সেই লক্ষ্য সাধনের চেয়ে সরকারি কোষাগারের অর্থ লুটপাটই ছিল তৎকালীন শাসকদলের প্রধান উদ্দেশ্য। আজ শুক্রবার ভারী ও মাঝারি শিল্প সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, বিগত সরকার শিল্পের নামে শুধু আর্থিক দুর্নীতির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একদা করা তাঁর বিভিন্ন ভবিষ্যৎবাণী যেভাবে মিলেছে, তাতে বাংলার সাধারণ মানুষ এখন তাঁর এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। অনেকেরই ধারণা, নব্য নির্বাচিত সরকার যেহেতু রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের শপথ নিয়েছে, তাই এই ধরণের আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত হওয়া অনিবার্য। মুখ্যমন্ত্রী এদিন যে সুর চড়িয়েছেন, তাতে তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন আমলের আরও একাধিক দুর্নীতির ফাইল খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই তদন্তের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।