আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ এবং আকাশযুদ্ধে চালকহীন ড্রোন বা আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমসের (ইউএএস) গুরুত্বের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। শুক্রবার অ্যারোস্পেস পাওয়ার অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর একক বা কেন্দ্রীভূত বিমান শক্তির দিন নেই। ভবিষ্যৎ যুদ্ধ হতে চলেছে বিকেন্দ্রীকৃত এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর।
এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং বলেন, ড্রোন এবং চালকহীন বিমান ব্যবস্থার উত্থান কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়, বরং এটিই এখনকার রূঢ় বাস্তব। যুদ্ধক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং ভারতকেও এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তাঁর মতে, চালকহীন এই যুদ্ধবিমানগুলো আসলে মূল বিমান শক্তিরই একটি বর্ধিত অংশ। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর ফলে বিপজ্জনক সামরিক অভিযানে মানব জীবনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে চালকহীন হলেও আকাশযুদ্ধের প্রচলিত সমস্ত নিয়ম ও কৌশল এই ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
অ্যান্টি-ড্রোন বা ড্রোন বিধ্বংসী প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে বিমান বাহিনী প্রধান এটিকে একটি চিরন্তন ‘ইঁদুর-বেড়াল খেলার’ সাথে তুলনা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখনই সামরিক ক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রযুক্তির জন্ম হয়, ঠিক তখনই তার পাল্টা প্রযুক্তি তৈরি হওয়া অনিবার্য। যুদ্ধ এভাবেই বিবর্তিত হয়।
বক্তব্য চলাকালীন তিনি পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের চালানো সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্ধুর’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান—এই তিন বাহিনীর মধ্যে অভূতপূর্ব সমন্বয়ের কারণেই অপারেশন সিন্ধুর সফল হয়েছে। কোনো কেন্দ্রীয় এজেন্সির হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই স্তরের নিখুঁত সমন্বয় প্রমাণ করে যে ভারত যেকোনো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম। আগামী দিনে যখন তিন বাহিনী একই আকাশসীমা ব্যবহার করে অভিযান চালাবে, তখন এই পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠবে।
একই অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চালকহীন বিমান প্রযুক্তির একীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তিন বাহিনীর স্বাধীন পরিচালনার জন্য ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয় এখন আর কেবল একটি বিকল্প নয়, এটি একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা।
এয়ার মার্শাল দীক্ষিত সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আধুনিক যুগে কোনো একক বাহিনীর পক্ষে একা যুদ্ধ জয় করা অসম্ভব। যৌথ নেতৃত্ব, সমন্বিত যুদ্ধকৌশল এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির নিখুঁত ধারণাই আগামী দিনের যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় এনে দিতে পারে। চালকহীন বিমানগুলো এখন আর কেবল মূল বাহিনীকে সাহায্য করার কোনো অনুষঙ্গ নয়, এগুলো নিজেই এখন যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।





