জেলের সেলে শুভেন্দুর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! প্রেসিডেন্সিতে মাঝরাতে তুলকালাম, রাজসাক্ষীদের কুঠুরি থেকে উদ্ধার কী?

প্রেসিডেন্সি সেন্ট্রাল সংশোধনাগারের হাই-সিকিউরিটি সেলে এক নজিরবিহীন ও অতর্কিত অভিযান চালাল রাজ্য প্রশাসন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই মেগা রেইড চালানো হয় বলে নবান্ন সূত্রে খবর। জেলের অতি-সুরক্ষিত দেওয়াল এবং আধুনিক জ্যামারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বন্দিদের কুঠুরি থেকে উদ্ধার হয়েছে এক-দুটি নয়, এক ধাক্কায় ২৩টি সচল স্মার্টফোন ও একাধিক সিমকার্ড। এই ঘটনায় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে, তেমনই জেলের অন্দরে থাকা আধিকারিকদের যোগসাজশও এবার আতশকাচের তলায়।

কারা দফতর সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই খবর আসছিল যে প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতরে বসে কিছু হেভিওয়েট বন্দি এবং কুখ্যাত অপরাধীরা বাইরের অপরাধ চক্র পরিচালনা করছে। এমনকি বিভিন্ন তোলাবাজি ও অপরাধের ব্লু-প্রিন্টও জেলের ভেতর থেকেই তৈরি হচ্ছিল। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার গভীর রাতে জেলের নির্দিষ্ট কিছু সেলে অতর্কিত তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তল্লাশি অভিযানে নেমে চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। বন্দিদের বিছানার তলা, শৌচাগার এবং কুঠুরির দেওয়ালের গোপন খাঁজ থেকে একে একে উদ্ধার হতে থাকে দামি দামি মোবাইল ফোন। অতি-সুরক্ষিত এই সংশোধনাগারে ২৪ ঘণ্টা জ্যামার চালু থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই মোবাইলগুলি সক্রিয় ছিল এবং কারা এগুলিতে রিচার্জ করত, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলের ভেতরের এই অপরাধ চক্রকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রক্ষী বা জেলের ভেতরের কোনও বড় আধিকারিকের হাত রয়েছে কি না, তা জানতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জেলের বেশ কয়েকজন কর্মীকে সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা অ্যাকশনে স্বভাবতই চরম শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্যের পুলিশ ও কারা প্রশাসনের অন্দরে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy