‘যাঁরা যাওয়ার, চলে যান!’ বিপর্যয়ের পর কালীঘাটে চরম অগ্নিশর্মা মমতা, দল ছাড়ার ফতোয়া?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এবার তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতা হারানোর ১০ দিনের মাথায় শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে দলের পরাজিত প্রার্থী এবং জেলা স্তরের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী। আর সেই বৈঠকের শুরুতেই দলের এক শ্রেণির বেইমান ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের উদ্দেশে কার্যত চরম হুঁশিয়ারি ও দল ছাড়ার ফতোয়া জারি করলেন মমতা।

নির্বাচনে হারের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অনেক চেনা মুখকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দলবদলের জল্পনা শুরু হয়েছে। এই গুঞ্জন এবং দলের ভেতরের অন্তর্কলহ নিয়ে এদিন প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। অত্যন্ত কড়া সুরে তিনি বলেন, “যাঁরা দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার, তাঁরা দয়া করে এখনই চলে যান। কিন্তু দলে থেকে পিছন থেকে ছুরি মারা বরদাস্ত করা হবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল নেত্রী এই বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে দল পরিচালনায় আর কোনও আপস করা হবে না।

বৈঠক সূত্রে খবর, হারের ধাক্কা ভুলে শূন্য থেকে নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে সমস্ত এলাকায় দলের হেভিওয়েট মন্ত্রী এবং বিদায়ী বিধায়কেরা হেরেছেন, সেখানকার বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’র বিরুদ্ধে দলের নেতাদের অবিলম্বে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূলের অন্দরে যখন ক্ষমতা হারানোর পর এক ধরণের হতাশা গ্রাস করছে, ঠিক তখনই মমতার এই ‘হুঁশিয়ারি’ এবং নতুন করে লড়ার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই কড়া দাওয়াইয়ের পর দলের কতজন নেতা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সাথে থাকেন, নাকি শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষিত ‘তিন মাসের নো-এন্ট্রি’র মেয়াদ ফুরোলেই ফের পদ্ম শিবিরে যাওয়ার লাইন পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy