ম্বইয়ের সেই তরমুজ রহস্যে নয়া মোড়! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নেই বিষক্রিয়ার চিহ্ন, তবে কি অন্য কোনো কারণে শেষ আস্ত পরিবার?

মুম্বইয়ের পায়ধুনি এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিল তদন্ত। গত ২৬শে এপ্রিল তরমুজ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হওয়া নাসরিন ডেকালিয়া (৩৫), আয়েশা ডেকালিয়া (১৬), আবদুল্লাহ ডেকালিয়া (৩৫) এবং শামিল (১২)-এর শরীরে কোনো বিষাক্ত পদার্থের সন্ধান পাননি চিকিৎসকরা। প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং-এর সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় এখন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।

পুলিশ সূত্রে খবর, মুম্বইয়ের একটি সরকারি হাসপাতালের প্রাথমিক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, মৃতদেহগুলিতে কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অথচ পরিবারের দাবি ছিল, রাতে তরমুজ খাওয়ার পরেই একে একে চারজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক ধারণায় মনে করা হয়েছিল, ফল থেকেই শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে যে আদতে শরীরে কোনো রাসায়নিক বিষ প্রবেশ করেছিল কি না।

তদন্তে নেমে পুলিশ আরও একটি বিষয় খতিয়ে দেখছে—চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না। জেজে হাসপাতালে ইতিমধ্যেই একটি ‘ডেথ অডিট’ বা মৃত্যু নিরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি খতিয়ে দেখছে যে, হাসপাতালে ভর্তির পর সঠিক প্রটোকল মেনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না নাকি দেরি হওয়ার কারণে প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, চিকিৎসায় কোনো খামতি ছিল না।

ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর একটি বিশেষ দল এই ঘটনার সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আপাতত ফরেনসিক ল্যাবরেটরির চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে এই রহস্যের সমাধান। তরমুজ কি শুধুই একটি সমাপতন ছিল, নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো ঘাতক—সেই উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy