তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল লোকসভার অলিন্দে। সতীর্থ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘দুর্ব্যবহার ও মৌখিক নিগ্রহ’-এর অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরের চাপানউতোর এখন তুঙ্গে।
বৃহস্পতিবার স্পিকারকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন, লোকসভার ভেতরে তৃণমূলের চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, দলের একাধিক মহিলা সাংসদও তাঁর এই ‘নারী বিদ্বেষমূলক’ আচরণের শিকার বলে দাবি করেছেন বারাসতের সাংসদ। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার চিফ হুইপ পদ থেকে সরানোর পর থেকেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে শীতল লড়াই চলছিল। দলের অন্দরে কাকলির রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের জল্পনাও দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় দলের সাংগঠনিক পদ থেকে সরে যাওয়া এবং বিরোধী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাতের ঘটনা সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ জানানোর অনুমতি চেয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কার্যত দলের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের এই দুই দাপুটে সাংসদের সংঘাত এখন দিল্লির সংসদীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।





