স্কুল খুললেই ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক! প্রার্থনার প্রমাণ রাখতে হবে ভিডিও-তে

গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটি শেষে আগামী ১ জুন খুলছে রাজ্যের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলি। আর স্কুল খোলার আগেই সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে তৎপরতা বাড়াল রাজ্য শিক্ষা দফতর। মঙ্গলবার শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) সাথে বৈঠকে এই নির্দেশিকার কার্যকারিতা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

কী থাকছে নতুন নির্দেশিকায়? গত ১৪ মে জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন ছুটির পরবর্তী সময় থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত স্কুল এবং মাদ্রাসাগুলিতে প্রভাতী সমাবেশে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • ভিডিও রেকর্ডিং: এই নিয়ম সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্কুলগুলোকে প্রমাণ হিসেবে সমাবেশের ভিডিও রাখতে বলা হয়েছে।

  • সময়সীমা: ‘বন্দে মাতরম’-এর ছটি স্তবক গাইতে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় লাগে, সেভাবেই প্রভাতী সভার সময়সূচি সাজাতে হবে।

  • নিয়ম প্রয়োগ: এই নির্দেশ শুধুমাত্র সাধারণ স্কুলেই নয়, মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরও ইতিমধ্যেই এই মর্মে সম্মতি জানিয়ে নির্দেশ জারি করেছে।

উল্লেখ্য, এতদিন স্কুলগুলিতে সাধারণত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়া হতো। নতুন নির্দেশে এই প্রথায় পরিবর্তন এল।

স্কুলের পরিকাঠামো ও র‍্যাশনলাইজেশন নিয়ে বড় বার্তা: মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের ১০ জেলার ডিআই-দের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর। বুধবার কলকাতা সহ বাকি জেলাগুলির সাথেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে:

১. ছাত্রহীন স্কুলের তালিকা: যেসব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য বা নগণ্য, সেই স্কুলগুলির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শিক্ষা ব্যবস্থার ‘র‍্যাশনালাইজেশন’ বা ভারসাম্য বজায় রাখতে ওইসব স্কুলের শিক্ষকদের ছাত্রসংখ্যা বেশি এমন স্কুলে বদলি করা হতে পারে। ২. ব্যয় সংকোচন: সরকারি খরচ কমাতে স্কুলগুলিকে সশরীরে সভার বদলে ‘অনলাইন মিটিং’ এবং কাগজের ফাইলের বদলে ‘ই-ফাইলিং’ ব্যবস্থা চালু করতে বলা হয়েছে। ৩. পরিচ্ছন্নতা: ছুটি শেষে স্কুল খোলার আগে ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামহলের মতে, রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন দেশাত্মবোধের প্রচার ঘটাবে, তেমনই স্কুলগুলির সঠিক প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সাহায্য করবে। তবে ছাত্রহীন স্কুলের শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি নিয়ে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy