হাতে বারো পাতার ফর্ম, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন শুরু, কোন তথ্য না দিলে বাতিল হতে পারে ফর্ম?

পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করল রাজ্য সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর নাম বদলে নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ করল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Yojana)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নবান্নে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করেছেন। নতুন এই ব্যবস্থায় মহিলাদের মাসিক ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও ওয়েবসাইট:
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবেদনকারী মহিলারা অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট https://socialsecurity.wb.gov.in/login- এ গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে লগইন করলেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম।

বারো পাতার ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হবে?
নতুন এই প্রকল্পের ফর্মটি বেশ বিস্তারিত, যেখানে পরিবারের স্বচ্ছলতা ও সামাজিক অবস্থান যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি হলো:

প্রাথমিক তথ্য: পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, আধার নম্বর, রেশন কার্ড আইডি ও যোগাযোগের ঠিকানা।

পরিবারের বিবরণ: প্রতিটি সদস্যের পরিচয়, আধার নম্বর, শিক্ষার যোগ্যতা, পেশা এবং তাদের সাথে সম্পর্কের তথ্য।

ব্যাংক সংক্রান্ত: পরিবারের সব সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড প্রদান বাধ্যতামূলক।

স্বাস্থ্য ও পেশা: পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance) এবং চাকরির তথ্য জানাতে হবে।

নাগরিকত্ব ও আইনি অবস্থা: আবেদনকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) অনুযায়ী সার্টিফিকেট পাওয়ার আবেদন করেছেন কি না, অথবা এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা বিচারাধীন আছে কি না—সেটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

বাধ্যতামূলক প্রশ্নের উত্তর:
ফর্ম পূরণের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যেমন:
১. বাড়িতে পাকা ঘর কয়টি আছে?
২. পরিবারের কারও কি চারচাকার গাড়ি রয়েছে?
৩. কেউ আয়কর বা পেশাগত কর দেন কি না?
৪. পরিবারের কেউ মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ বা কোনো জনপ্রতিনিধি কি না?
৫. পরিবারের মোট বার্ষিক আয় কত?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবেদনকারীদের অনুরোধ করেছেন, ফর্মটি ফিলাপ করার সময় যথেষ্ট সময় নিয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যজুড়ে এখন এই ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ধুম পড়েছে। সঠিক তথ্য দিয়ে আজই নিজের নাম নথিভুক্ত করুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায়।