বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল মেটা। দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন-নির্ভর মডেল থেকে বেরিয়ে এসে এবার প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করল মার্ক জাকারবার্গের সংস্থাটি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের জন্য বাজারে এসেছে ‘প্লাস’ সংস্করণ। এখন থেকে উন্নত মেসেজিং অভিজ্ঞতা, বিশেষ থিম এবং এক্সক্লুসিভ ফিচারের জন্য ব্যবহারকারীদের দিতে হবে মাসিক ফি।
মেটা-র এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপনের বাইরে একটি নিরবচ্ছিন্ন এবং উন্নত সোশ্যাল মিডিয়া অভিজ্ঞতা প্রদান করা। গ্লোবাল মার্কেটে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্লাস-এর মাসিক মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৩.৯৯ ডলার (প্রায় ৩৮৭ টাকা) এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস-এর জন্য ২.৯৯ ডলার (প্রায় ২৯০ টাকা)। যদিও ভারতে এই সাবস্ক্রিপশনের দাম এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্লাস-এ কী কী থাকছে?
টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রিমিয়াম গ্রাহকরা ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ ফিচারের পাশাপাশি স্টোরি রিওয়াচ কাউন্ট এবং কে আপনার স্টোরি গোপনে দেখছে, তা জানার সুবিধা পাবেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়েও স্টোরি সচল রাখা এবং প্রতি সপ্তাহে একটি স্টোরি স্পটলাইট করার মতো আকর্ষণীয় ফিচার যোগ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাদের ফিডে না দেখিয়ে সরাসরি প্রোফাইল ও হাইলাইটসে পোস্ট করতে পারবেন। এর পাশাপাশি থাকছে অ্যানিমেটেড সুপার হার্ট রিঅ্যাকশন, কাস্টম অ্যাপ আইকন, বিশেষ বায়ো ফন্ট এবং প্রোফাইল পিন করার বাড়তি সুবিধা।
হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস-এর বিশেষত্ব:
হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস সংস্করণটি মূলত পার্সোনালাইজেশন বা ব্যক্তিগতকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। গ্রাহকরা এখানে পাবেন কাস্টম থিম, ইউনিক রিংটোন, প্রিমিয়াম স্টিকার প্যাক, চ্যাট লিস্ট কাস্টমাইজেশন টুল এবং বাড়তি চ্যাট পিন করার ক্ষমতা।
মেটা ওয়ান ও এআই সাবস্ক্রিপশন:
সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি মেটা এবার এআই (AI), ক্রিয়েটর এবং বিজনেস-কেন্দ্রিক ‘মেটা ওয়ান’ সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানও নিয়ে এসেছে। যারা মেটা এআই ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি বা ছবি জেনারেট করেন, তাদের জন্য রয়েছে ‘মেটা ওয়ান প্লাস’ (মাসিক ৭.৯৯ ডলার বা প্রায় ৭৭৫ টাকা)। এছাড়া আরও উচ্চপর্যায়ের ব্যবহারের জন্য ‘মেটা ওয়ান প্রিমিয়াম’ প্ল্যানটি আনা হয়েছে যার মাসিক খরচ ১৯.৯৯ ডলার (প্রায় ১৯৩৯ টাকা)।
সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা-র এই সিদ্ধান্ত কি ব্যবহারকারীদের মন জয় করতে পারবে? বিজ্ঞাপনের বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পেতে কি সাধারণ মানুষ মাসিক ফি দিতে রাজি হবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, মেটা-র এই প্রিমিয়াম যাত্রা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মানচিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে চলেছে।





